একটি পক্ষ উসকানি দিয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (৫ নভেম্বর): বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাসের পর প্রকৃত শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ আন্দোলন স্থগিত করলেও বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে উসকানি দিয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা জিইয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ও বক্সে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক ঘটনার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের সরাসরি মদদ ও ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরিতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী আমলের বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিগত শাসনামলে ব্যাংক খাত ধ্বংস, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মহোৎসব চলেছে। বর্তমানে সেই পুরোনো লুটপাটের রাজনীতি পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, তবে দেশের সচেতন জনসাধারণ আর কোনোভাবেই সেই নৈরাজ্যপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নয়।
৭ নভেম্বর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনটির মূল চেতনা হলো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। যেকোনো ধরনের আগ্রাসী আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় বাকশাল শাসনব্যবস্থা কায়েম করার মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরেছিল। পরবর্তীতে সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই অগ্রযাত্রাকে সফলভাবে এগিয়ে নেন। এ ছাড়াও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ৭ নভেম্বরের চেতনা গভীরভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রাফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর আহ্বায়ক বেলায়ত হোসেন বুলু এবং মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম প্রমুখ।
সমাবেশটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কাজীর দেউরি চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করার পর র্যালিটি জামালখান এলাকায় গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।
মনোয়ারুল হক/
