আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩০ অক্টোবর): দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্যমতে, দেশজুড়ে খুন, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের মতো ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। মূলত ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় ধাপের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ বাণিজ্য এবং দখলদারত্ব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাটবাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহন খাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি এখনো থামেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলের নাম পরিবর্তিত হলেও চাঁদাবাজির প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সরকারের সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের মধ্যে একটির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অন্যটির জনরায়কে অস্বীকার করা সাধারণ জনগণের সঙ্গে এক প্রকার বিশ্বাসভঙ্গ। সরকার যদি এ বিষয়ে আন্তরিক মনোভাব দেখায়, তবে আগামী ৯ নভেম্বর নির্ধারিত সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আগামী ৩১ অক্টোবর তৃতীয় দফায় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। এই লংমার্চের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার সংকট দূরীকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণের অবসান। তিনি জানান, ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দেবে লংমার্চটি, যা তাদের এযাবৎকালের সবচেয়ে দীর্ঘ কর্মসূচি।
আগামীকাল সকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে এই লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে। এরপর প্রায় ছয় শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে সকাল আটটায় কাফেলাটি রওনা দেবে। যাত্রাপথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালের মোড়, খুলনার বাবরী চত্বর ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে মোট ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরিশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে একটি সমাপনী জনসভার মাধ্যমে লংমার্চের সমাপ্তি ঘটবে।
লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং জামায়াতের পক্ষ থেকেও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত সৃষ্টি এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ এবং কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এই লংমার্চে অংশ নেবেন। এই বহরে বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হতে পারে বলে তারা আশা করছেন। লংমার্চ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
