‘অ্যান্টি টেররিজম’ ও ‘কাউন্টার টেররিজমের’ হচ্ছে নতুন নাম, বাড়ছে দায়িত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৪ জুলাই) : দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কৌশলগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে পুলিশের দুটি বিশেষায়িত ইউনিট—অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-এর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে এই ইউনিট দুটির কর্মপরিধি ও দায়িত্ব আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব নিয়ে খোদ পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার প্রস্তাব দেয়। এর পরপরই ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো অপর এক চিঠিতে সিটিটিসি-এর নাম বদলে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, সময়ের সাথে সাথে সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারের মতো নতুন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এই পরিবর্তিত নিরাপত্তা ঝুঁকি দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতেই কাঠামোগত পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত।
তাছাড়া, আন্তর্জাতিক মহলে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি বেশ সুপরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে পুলিশ সদর দপ্তর। নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় সরকারের বাড়তি কোনো আর্থিক সংশ্লেষ বা খরচের প্রয়োজন হবে না। একই সাথে, নতুন পরিচয়ে কাজ শুরু করলে অতীতের বিভিন্ন বিতর্কিত অভিযানের নেতিবাচক ইমেজ কাটিয়ে জনআস্থা পুনর্গঠন করা সহজ হবে বলেও মনে করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দেশব্যাপী উগ্রবাদ দমনে একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর ৬২০ জন জনবল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এটিইউ। তবে বর্তমান প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের মগজধোলাই করছে এবং ‘স্লিপার সেল’ তৈরি করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে নতুন রূপে এসএসইউ শুধু জঙ্গিবাদ দমনই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তি রক্ষায় আরও ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।
তবে এই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এটিইউ ও সিটিটিসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো বিশেষায়িত সংস্থাকে যদি অতিরিক্ত ও ভিন্নধর্মী বহুমুখী দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তাদের মূল লক্ষ্য ও কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আকস্মিক এই পরিবর্তন জঙ্গিবাদ দমনে তাদের দীর্ঘদিনের দক্ষতাকে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে কি না—তা নিয়ে বিভাগের ভেতরেই আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।
মনোয়ারুল হক/
