মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে দেশ গড়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১ জুন) : একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে মেধা, নৈতিকতা এবং জবাবদিহিতার মেলবন্ধন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা এবং টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো একটি দক্ষ, বুদ্ধিদীপ্ত ও দায়িত্বশীল প্রশাসন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অগ্রগতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের যাবতীয় বিতর্ক, সমালোচনা ও নেতিবাচক বিষয়গুলোকে পেছনে ফেলে সবাইকে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার (১ জুন) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা দেশের মেধাবী সন্তান। বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্র তাদের গড়ে তুলেছে এবং তাদের ওপরই জনগণের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিকনির্দেশনা দিতে পারে, কিন্তু প্রশাসনই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করে।
তিনি বলেন, অতীতে দেশের প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান সময়কে নতুনভাবে রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কোরবানির আত্মত্যাগের শিক্ষা ধারণ করে অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে হবে।
আহমেদ আযম খান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নৈতিকতা, দক্ষতা ও সুশাসনের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকেও সেই পথে এগিয়ে নিতে হবে। দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম যেন উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশমুখী না হয়ে নিজেদের দেশেই সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখতে পারে, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মনোয়ারুল হক/
