পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগারদের নতুন ইতিহাস
ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২০ মে) : প্রত্যাশা আর রোমাঞ্চের যে আবহ তৈরি হয়েছিল, মাঠের পারফরম্যান্সে তার শতভাগ প্রতিফলন দেখাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে শক্তিশালী পাকিস্তানকে স্রেফ উড়িয়ে দিল চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। শান মাসুদের দলকে চরম লজ্জায় ডুবিয়ে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে এক অবিস্মরণীয় সিরিজ নিজেদের করে নিল টিম টাইগার্স।
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষটিতেও সফরকারীদের হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে ‘বাংলাওয়াশ’ করার গৌরব অর্জন করেছে স্বাগতিকরা। এশিয়ার অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তানের বিপক্ষে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই প্রথম সিরিজ জয়ের রেকর্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর ও অর্জন:
- ফলাফল: বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।
- মাইলফলক: পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়।
ঐতিহাসিক এই জয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা করল বাংলাদেশ, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজ (২০ মে) সিলেট টেস্টে পঞ্চম ও শেষ দিনে ৭৮ রানে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। এর আগে, মিরপুর টেস্টে টাইগাররা জিতেছিল ১০৪ রানের ব্যবধানে।
পঞ্চম ও শেষ দিনের প্রথম ঘণ্টা ছিল পাকিস্তানের। আগের দিনে অপরাজিত থাকা রিজওয়ান ও সাজিদ দলের খাতায় যোগ করেন ৪২, কোনো বিপদ ছাড়াই। দলীয় রান ছিল ৩৫৮ এবং জয় থেকে ৭৯ রানে দূরে ছিল। পানি পানের বিরতির পরই মুহূর্তে পাল্টে যায় দৃশ্যপট! পরের ১০ মিনিট বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের।
স্বস্তির ব্রেক থ্রু উপহার দেন তাইজুল ইসলাম। তার চমৎকার এক স্পিন ডেলিভারিতে স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন সাজিদ। তিনি আউট হয়ে ফিরেন ব্যক্তিগত ২৮ রানে। তাকে সাজঘরে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেটের কোটা পূর্ণ করেন তাইজুল। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটা তার ১৮তম ফাইফার।
পরের ওভারেই বড় মাছ শিকার শরিফুল ইসলামের। ৯৪ করা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে মেহেদি হাসান মিরাজের ক্যাচ বানান টাইগার পেসার। এর পরের ওভারে ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্ত আসে যখন তাইজুলের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে অক্কা পান খুররাম শেহজাদ (০)। মাত্র ১২ বলের ব্যবধানে শেষ ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান থামে ৩৫৮ রানেই।
মনোয়ারুল হক/
