নওগাঁর নিয়ামতপুরে ৪ খুন: আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক (নওগাঁ), এবিসিনিউজবিডি, (২২ এপ্রিল) : নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশি হেফাজতে যারা রয়েছেন, তারা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন, বড় বোন ডালিমা, মেজো বোন হালিমা, ভাগ্নে সবুজ রানা এবং ভগ্নিপতি শহিদুল।
ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, গতকাল হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। একাধিক তদন্তসংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। আলামতগুলো বিশ্লেষণ এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে তাতে মনে হচ্ছে- এই হত্যাকাণ্ড জমিজমা সংক্রান্ত এবং ওই পরিবারে আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরেই হয়েছে।
অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি এই মুহুর্তেই গোপন রাখা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা নিয়ে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করলে তাদেরকেও হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান ওসি৷
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। তারা হলেন- ওই গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মরদেহগুলো আজ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
মনোয়ারুল হক/
