প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলায় তারেক রহমান, বগুড়ায় ব্যস্ত দিনব্যাপী সফর
বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক (বগুড়া), এবিসিনিউজবিডি, (২০ এপ্রিল) : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম নিজ জেলা বগুড়ায় পা রাখলেন তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সকাল ৬টা ১০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান। বগুড়ায় পৌঁছালে ডা. জুবাইদা রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা আক্তার।
দিনব্যাপী এই সফরে প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন, জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং সারা দেশে একযোগে ই-বেইলবন্ড (অনলাইনে জামিননামা দাখিল) কার্যক্রম চালুর ঘোষণা।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টায় পৌরভবনে গিয়ে সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী নিজ পৈতৃক এলাকা গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে যান। সেখানে তিনি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা এবং চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধনও করেন।
পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন শেষে বিকালে বগুড়া শহরে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৪টায় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
দিনের শেষাংশে তিনি নবনির্মিত বগুড়া প্রেসক্লাব ভবনের উদ্বোধন এবং বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে স্বল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতিও করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়াজুড়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং রাজনৈতিক তৎপরতা। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সফরটি ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
মনোয়ারুল হক/
