হজযাত্রীদের সমস্যা নিরসনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৮ এপ্রিল) : হজ ক্যাম্প এবং হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট উঠে হজযাত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে হজ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হজের প্রথম ফ্লাইট অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে উঠেন এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দোয়া করেন যাতে তারা সহি সালামতে সৌদি আরবে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্প ও হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছে দেশ ও জাতি এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া করতে হজযাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হজের সময়ে যেসব সমস্যা হয় তার নিরসনে তার সরকার কাজ করেছে। আগামীতে এই ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান, হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে সেখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটে উঠেন এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ হজযাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ফ্লাইটে ৪১৮ হজযাত্রী রয়েছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। এদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ এবং বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাবেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদি আরবের সৌদিয়া ৩৫ শতাংশ আর ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে হতে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা শেষ হবে ১ জুলাই।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সাংবাদিকদের বলেন, বিমান ও হজ ক্যাম্প সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করেছে। আল্লাহ যেন হজকে কবুল করেন— দেশবাসীর দোয়া চাই। প্রধানমন্ত্রী বিমানে ও ক্যাম্পে সব হজযাত্রীদের খোঁজ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, হজ নিয়ে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আগে হজ ব্যবস্থাপনা কখনো এত সুশৃঙ্খল হয়নি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজ ফ্লাইট নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না হয় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিগত দিনের চেয়ে সুন্দরভাবে আয়োজন করা হয়েছে। আজ ফ্লাইট যাবে ১৪টি। গত বছরের তুলনায় ১২ হাজার টাকা টিকিটের দাম কমানো এবং খাবার পর্যটনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
