টসে হেরে প্রথম ম্যাচেই আনকোরা কিউইদের কাছে ধরাশায়ী বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ এপ্রিল) : তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতির অধীনে প্রথম সিরিজ খেলতে মাঠে নেমেছে টাইগাররা। একইসঙ্গে তাদের সামনে সুযোগ রয়েছে হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ের।

তারকা ক্রিকেটার নাই বললেই চলে। বাংলাদেশে আসা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলকে তাই বলা হচ্ছিল বি কিংবা সি টিম। এমন আনকোরা দলের সঙ্গেই প্রথম ওয়ানডেতে পেরে উঠলো না বাংলাদেশ। ঘরের মাঠ, পরিচিত কন্ডিশন, দর্শক; সব কিছুই বিফলে। ২৬ রানে হেরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে করে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান। জবাবে বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে অল আউট। বাংলাদেশের ইনিংসে দুজন পেয়েছেন ফিফটির দেখা; সাইফ ও হৃদয়। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে আউট লিটন। আফিফ ছিলেন মোটামুটি ছন্দে। বাকি কোন ব্যাটারই ছুতে পারেনি দুই অঙ্কের রান। ফলাফল; বাজে হার।

রান তাড়ায় শুরুতেই ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে নাথান স্মিথের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। তবে বলটি হাতে জমাতে পারেননি হেনরি নিকোলস। তবে চতুর্থ ওভারেই বিদায় নেন তানজিদ হাসান। নাথান স্মিথকে ডাউন দ্য উইকেট গিয়ে মারার চেষ্টায় বোল্ড হন তিনি। ৬ বল খেলে তানজিদ করেন ২ রান। পরের বলেই গোল্ডেন ডাক নাজমুল হোসেন শান্ত। বলটা একটু সুইং করে ভেতরে ঢুকেছিল। ব্যাটে পাননি। ফলে বোল্ড! স্মিথের সামনে তখন হ্যাট্রিকের সুযোগ। তবে বিপদ ঘটেনি।

নবম ওভারের পঞ্চম বলে ৫০ রানে পোঁছায় বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে তানজিদ ও নাজমুলের উইকেট হারিয়ে ফেলার পর কিছুটা সতর্ক হয়েই ব্যাটিং করেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। এই জুটিই মূলত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান। তৃতীয় উইকেটে আসে ১১৬ বলে ৯৩ রান।

টানা তিন বাউন্ডারিতে ফিফটি পৌঁছান সাইফ হাসান। তাঁর ফিফটির সঙ্গে বাংলাদেশ দলের এক শ রানও পূর্ণ করে। ওয়ানডেতে সাইফের দ্বিতীয় ফিফটি এটি। ১০ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এর আগে ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই সাইফ নিজেকে অতিক্রম করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৫৭ রানে তিনি বিদায় নেন ও’রুর্কের বলে ক্লার্কসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। তার ইনিংস থামে ৭৬ বলে ৫৭ রানে, যে ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়।

লিটনের সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে মাইলফলকের আগেই ফেরেন লিটন। অফ স্পিনার ডিন ফক্সক্রফটের ভেতরে ঢোকা বল তাঁর ব্যাট ফাঁকি দিয়ে স্ট্যাম্প আঘাত হানে। ক্ষণিকের জন্য লিটন স্তম্ভিত হয়ে থাকলেন। এরপর হাতের ইশারায় যা দেখালেন, তাতে বোঝা গেল বল এতটা টার্ন করবে তিনি ভাবতে পারেননি।

লিটন ফেরেন ৬৮ বলে ৪৬ রান করে। ১৩২ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন। পঁচিশতম ওভারের চতুর্থ বলে ফক্সক্রফটকে চার মেরেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। এরপর টানা ৯০ ডেলিভারিতে (১৫ ওভার) বাংলাদেশ কোনো বাউন্ডারি পায়নি। অবশেষে ৩৯তম ওভারের পঞ্চম বলে সেই হৃদয়ই ও’রুর্কের বলে চার মেরে বাউন্ডারি খরা কাটিয়েছেন।

৪১তম ওভারে বিদায় নেন আফিফ। আফিফ-হৃদয় জুটিতে আসে ৭৯ বলে ৫২ রান। লেনক্সকে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন আফিফ। ৪৯ বলে ২৭ রান করেন তিনি। দলীয় স্কোরে ১০ রান যোগ হতে বিদায় নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দরকারি সময়ে টিকতে পারলেন না তিনি। টিকনারের বলে রিভার্স শট খেলেছিলেন, তবে টাইমিং ঠিকঠাক হয়নি। প্রথম স্লিপের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি নেন উইকেটকিপার ল্যাথাম। ১৪ বলে ৬ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দলীয় স্কোর দুইশ পার হতে বিদায় নেন রিশাদ হোসেন। টিকনারের বলে তার হাতেই ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৪ রান তার সম্বল। হৃদয়ের সঙ্গে নতুন ব্যাটার হিসেবে যোগ দিয়েই গোল্ডেন ডাক মারেন শরিফুল ইসলাম। তারপর বিদায় নেন ২ রান করা তাসকিন। ভরসা ছিল তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে। বড় শট খেলতে গিয়ে স্মিথের বলে তিনি ধরা পড়েন নিকলসের হাতে। সেই সাথে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ছক্কায় ফিফটি করা হৃদয় শেষ পর্যন্ত করেন ৬০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস। নাহিদ রানা তিন বল খেললেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন টিকনার। স্মিথ ৩টি, ডিওন, লিনক্স, ও’ররকে একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে তোলে ২৪৭ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার হেনরি নিকলস। উইল ইয়ং করেন ৩০ রান। মিডল অর্ডারে ডিওন ফক্সক্রফট খেলেন ৫৮ বলে ৫৯ রানের দারুণ এক ইনিংস। নাথান স্মিথ ২২ বলে ২১ রানে থাকেন অপরাজিত। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইটে নেন তাসকিন, শরিফুল ও রিশাদ। মিরাজ ও নাহিদ পান একটি করে উইকেট।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ