সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু ও বিষু উৎসব শুরু
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (১২ এপ্রিল) : সবার মঙ্গল কামনায় সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে ফুল বিজু উদযাপন করলেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা। এর মধ্য দিয়ে পাহাড়ের এই সম্প্রদায়দের মধ্যে শুরু হলো বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আয়োজন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৭টায় বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষজন জলবুদ্ধ ও মা-গঙ্গাকে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে বিজু ও বিষু উৎসবের সূচনা করেন।
পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের যে আয়োজন, তারই একটি অংশ ফুল বিজু। বাংলা বর্ষপঞ্জির ২৯ চৈত্র ফুল বিজুর মাধ্যমে শুরু হয় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা। এদিন বান্দরবানে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু, মাধবীলতা, রঙ্গনসহ নানা রকমের ফুল নদীতে ভাসিয়ে দেন। গঙ্গা দেবী ও উপগুপ্ত বুদ্ধের পুজা করেন চাকমা তরুণ-তরুণীরা। নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে প্রার্থনা করা হয়।
ফুল বিজুতে অংশ নেওয়া মার্জিতা চাকমা বলেন, প্রতিবছর ১২ এপ্রিল পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো, গত বছর ভালো ছিলাম,আগামী বছরও ভালো থাকার আর্শীবাদ প্রার্থনা করে জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাকে ফুল দিয়ে পূজা করি সাঙ্গু নদীতে, সকলের মঙ্গল কামনা করি।
উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, নদীতে ফুল দিয়ে পূজা করা আমাদের ঐতিহ্য। প্রতিবছর ১২ এপ্রিল তিন পার্বত্য জেলায় ১১টি সম্প্রদায় উৎসবমুখর পরিবেশে বিষু উৎসব উদযাপন করে থাকেন। জলবুদ্ধকে, মা গঙ্গাকে ফুল দিয়ে পূজা করে নিজের পরিবারের তথা সকলের মঙ্গল কামনা করে নদীতে ফুল নিবেদন করা হয়।
চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা তরুণ-তরুণীরা আরও বললেন, ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে আমাদের বর্ষবরণের আয়োজন শুরু হয়। এই ফুল বিজুর মাধ্যমে গঙ্গাদেবীর মঙ্গল কামনায় ও পুরানো বছরের সব দুঃখ, গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই আমরা।
বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি- এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ১১টি জাতিগোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, ম্রো, খুমী, খেয়াং প্রমুখ) মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জনপদে বইছে আনন্দের হাওয়া।
বিজু-বৈসু-বিষু উপলক্ষে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে-
১২ এপ্রিল: বিকেল ৫টা থেকে রাতব্যাপী রেইচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা টুর্নামেন্ট।
১৩ এপ্রিল: সাংগ্রাইং র্যালি ও বয়স্ক পূজা।
১৪ এপ্রিল: বান্দরবানের বৌদ্ধ বিচারগুলোতে বুদ্ধ মূর্তি স্নান, রাতে পিঠা তৈরি।
১৫ এপ্রিল: কাঙ্ক্ষিত মারমা সম্প্রদায়ের রিলংবোই (মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলা)।
পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণে পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই এবং চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যাদের বিজু উৎসবকে একসঙ্গে ‘বৈসাবি’ও বলা হয়।
এ ছাড়াও বান্দরবানের সাত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর থাকবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদ।
মনোয়ারুল হক/
