জুলাই কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, আমরাও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১০ মার্চ) : পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থান বা জুলাই কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন ও অধিকার। আমরাও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সোমবার (৯মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, নির্যাতিত এবং অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা চাকরি হারানো পুলিশসহ অনেকেই রাজপথে ছিলেন। জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখছে পুলিশ। ২০২৪ সালে সংঘটিত জুলাই আন্দোলনকে যারা নিজের সম্পত্তি ভাবছে, তাদের তালিকা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি ও অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যে থানায় থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বসানোর প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইজিপি। তিনি বলেন, থানায় একটি ম্যাজিস্ট্রেসি সিস্টেম ডেভেলপ করা দরকার, যাতে জরুরি মামলাগুলো অল্প সময়ে সমাধান করা যায়।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। কোনো ঘটনা ঘটলে সবাই খুব দ্রুত বিচার চায়। জুডিশিয়াল ও পুলিশি সিস্টেমের প্রক্রিয়াগুলো মানতে হয়। প্রতিটি থানায় একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সাত দিনের মধ্যে বিচার পাওয়া সম্ভব হবে, সময়ও বাঁচবে। পুলিশের পোশাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। এটি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশে আনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে। তাদের অচিরেই ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। আশা করছি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই তালিকার ভিত্তিতে শিগগির দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

বাহিনীতে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার অবশ্যই মূল্যায়ন হবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, যারা সৎ ও যোগ্য, তারাই কেবল বাহিনীতে কাজ করবে। পরিষ্কার বার্তা হলো–পুলিশের ২ লাখ ১৫ হাজার সদস্যের এই পরিবারে যদি কোনো ‘দুষ্ট’ সদস্য থাকে, তবে তাদের বিদায় নিতে হবে। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো কি সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধ কি না–জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অতিশীয় ভূমিকা পালন করা হবে না। কিন্তু নাগরিকদের আইন মানতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। আইনের শাসন বাস্তবায়ন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এ জন্যই পুলিশ কাজ করবে। তিনি বলেন, যারা নিষিদ্ধ সংগঠন তারা বিভিন্ন অজুহাতে রাস্তায় নেমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি করবে, সন্ত্রাসকে উসকে দেবে, এটা আমরা মেনে নেব না।

ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের মৌসুমে মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা চাঁদাবাজির মতো কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেওয়া হবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ