শ্রীপুরে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, তিন মাসের গর্ভের সন্তানের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (২৪ ফেব্রুয়ারি): ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চর জোকা গ্রামের মোছাঃ জলি বেগমের তিন মাসের গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারী বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবার দাবি করেছে।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। হঠাৎ তলপেটে ব্যথা অনুভব করলে তার স্বামী মোঃ মুন্না মন্ডল (৩৫) তাকে শ্রীপুর উপজেলার খামার পাড়া এলাকায় অবস্থিত কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার জাকিয়া আফরিন আলিসার পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করা হয়।

পরবর্তীতে ডাক্তার জাকিয়া আফরিন আলিসার দেওয়া চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের পর তার তলপেটের ব্যথা আরও বৃদ্ধি পায়। অবস্থার অবনতি হলে স্বামী তাকে পাশের সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে ক্লিনিকের মালিক মোহনের সহায়তায় সরকারি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করেন।

পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, জলি বেগমের গর্ভে থাকা তিন মাসের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গর্ভের মৃত ভ্রূণ পচে যাওয়ার পাশাপাশি তার জরায়ুরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

জলি বেগমের স্বামী মোঃ মুন্না মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তার জাকিয়া আফরিন আলিসার ভুল চিকিৎসার কারণেই আজ আমি সন্তান হারিয়েছি। কাল আমার মতো আরেকজন অসহায় বাবা সন্তান হারাতে পারেন। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

এ বিষয়ে জলি বেগমের চাচাতো ভাই সাচ্ছু মিয়া (৪২) বলেন, “এর আগেও আমার স্ত্রীকে এখানে চিকিৎসা দিতে এনে একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। ভুল চিকিৎসার পর আমার স্ত্রীও মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার জাকিয়া আফরিন আলিসা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেছেন। তার দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে পরীক্ষার সময় জলি বেগমের গর্ভে কোনো সন্তান ছিল না।

এদিকে ভুক্তভোগীর পিতা মোঃ মতিয়ার মন্ডল বলেন, “আমরা আল্লাহর পরেই রোগ-ব্যাধির জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। যদি সেই ডাক্তারই আমাদের ক্ষতি করেন, তাহলে আমরা কোথায় যাবো?”

খামার পাড়া কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড ক্লিনিকটি সরকারি নিবন্ধিত কিনা, সে বিষয়ে জানতে মাগুরার সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ শামীম কবিরের (মুঠোফোন: ০১৭০১২৪৮১৬৪) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ