জামায়াতের সঙ্গে আমেরিকার আঁতাত দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঠাকুরগাঁও), এবিসিনিউজবিডি, (২৪ জানুয়ারি) : জামায়াতের সঙ্গে নাকি আমেরিকার একটি গোপন আঁতাত হয়েছে, এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর এবং শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে নাকি আমেরিকার একটি গোপন আঁতাত হয়েছে, এই আতাতটা বাংলাদেশের জন্য ভালো নয়, এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে, এ বিষয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা ব্যাখ্যা চাই। ওয়াশিংটন পোস্টে যে নিউজটা বের হয়েছে এই নিউজটা কতটুকু সত্যি এর ব্যাখ্যাটা কি, এই নিউজটা কতটুকু সত্যি, এর ব্যাখ্যাটা কি?’
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও গণভোট কী এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার সুযোগ পায়।’
তিনি বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্মতি জরুরি। সে কারণেই বিএনপি গণভোট চায় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সংস্কারের পক্ষে এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনার পক্ষে বিশ্বাস করে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা আজ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাইছে, তারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না। সেসময় তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে বহু মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে, লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কেউ আমাদের স্বাধীনতা এনে দেয়নি। আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি, যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি। অথচ যারা সেই স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, তারাই আজ আবার নতুন করে মাঠে নেমেছে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আগে নির্বাচনে দুটি প্রতীক ছিল- নৌকা ও ধানের শীষ। এবার নৌকা নেই। রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন একটি প্রতীক এসেছে দাঁড়িপাল্লা। ফলে এবারের নির্বাচন হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।’
ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিবারভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে মা-বোনেরা চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবাও নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক দেওয়া হবে। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং নারীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দেশ যেমন মুসলমানদের, তেমনি হিন্দু ভাই-বোনদেরও। আপনারা ভয় পাবেন না। আপনাদের শান্তি ও নিরাপত্তার দায়িত্ব বিএনপি নেবে। একজন মুসলমানের যে অধিকার আছে, আপনাদেরও ঠিক সেই অধিকারই আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোট দেওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যে আতঙ্ক কাজ করে, বিএনপি অতীতেও আপনাদের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
