দুর্গম ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার উদ্যোগ
চাঁদপুর প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (৭ নভেম্বর): মেঘনা নদীবেষ্টিত চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুর্গম ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন যাচাই করতে সরেজমিনে চরটি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। এই পদক্ষেপ সফল হলে চরাঞ্চলে নতুন শিল্পায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিডা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঈশানবালা চরটি ঘুরে দেখে। এই সময় চরটির ভৌগোলিক অবস্থান, জমির প্রাপ্যতা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের উপযোগী পরিবেশ সরেজমিন পর্যালোচনা করা হয়।
মেঘনা নদীবেষ্টিত হাইমচরের এই দুর্গম চরটি যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা ও শিল্পায়নের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। জীবিকার সুযোগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সীমিত হওয়ায় এখানকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ বাধ্য হয়ে জীবিকার টানে বিভিন্ন স্থানে চলে যান। এমতাবস্থায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, ঈশানবালা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্যই তারা সরাসরি পরিদর্শনে এসেছেন। এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, জমির প্রাপ্যতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কারখানা স্থাপনের সক্ষমতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক উল্লেখ করেন, হাইমচরের ঈশানবালা চর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে চাঁদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় শিল্পায়নের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। এর ফলে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দীর্ঘকাল অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নিয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি আরও যোগ করেন, এই অঞ্চলে শিল্পায়নের প্রচেষ্টা বাস্তব রূপ পেলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানে দারুণ ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ বদলে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে। তারা আন্তরিকভাবে চান এই উদ্যোগটি যেন বাস্তবে রূপ নেয়।
পরিদর্শন কার্যক্রমে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
