স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৭ নভেম্বর): দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করার নীতিতে অটল থেকে সকলকে এক প্ল্যাটফর্মে থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মতে, নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও এ দেশের মানুষকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা সম্ভবপর নয়। যারা দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে থেকে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে নানা তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের প্রতিটি হীন ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

১৯৭১ সালের বীর শহীদ ও লাখো মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যই ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা। যেখানে সাধারণ মানুষের মতামত, মৌলিক অধিকার এবং প্রত্যাশা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের পর থেকেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় তারা সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে একটি ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনকারী দিন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সেদিন এ দেশের সিপাহী ও জনতা এক ঐতিহাসিক ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তি চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়। ওই ঘটনার পথ ধরেই দেশে গণতন্ত্রের রুদ্ধ দুয়ার আবার উন্মুক্ত হয়েছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, পরবর্তী সময়ে নানা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণসহ বিভিন্ন কূটকৌশলে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের আপামর জনতা স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়ে তাদের হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, জনগণের সেই অর্জনও পরবর্তী সময়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আরেকটি ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্বকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতোই সেদিনও ঐক্যবদ্ধ জনতার শক্তির কাছে সব ধরনের অপশক্তি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অতীতের মতোই আজও একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থাকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বারবার প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে জানে। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রই তাদের অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারবে না।

দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি জাতীয় ঐক্যের শক্ত ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে অবস্থানকারী সব রাজনৈতিক দলকে আজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত বা মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনোভাবেই কোনো বিভাজন বা অনৈক্য থাকা উচিত নয়। সর্বস্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তিনি সকলকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ