হৃদয়ের প্রথম সেঞ্চুরি, টিকে থাকার চেষ্টা বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৭ নভেম্বর): সেপ্টেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাড়ে তিনশ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেই দারুণ সাফল্যের পর তাকে আন্তর্জাতিক টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা জোরালো হয়। জাতীয় দলের হয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে যখন সতীর্থদের আসা-যাওয়ার অসহায় মিছিল দেখছেন, ঠিক তখনই একাই দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন হৃদয়।

মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে হেরে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এরপর সিলেটে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও সেই পুরোনো চিত্রেরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। হৃদয় ছাড়া ব্যাটিং লাইনআপে আর কোনো ব্যাটারই বলার মতো কোনো ইনিংস উপহার দিতে পারেননি স্বাগতিকদের। মূলত তার এই দায়িত্বশীল সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই দলীয় দুইশ রানের কোটা পার করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২০5 রান। এর মাধ্যমে ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা এখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

ইনিংসের ১৭১তম বল মোকাবেলা করে ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান হৃদয়। শতক পূর্ণ করার পর হেলমেট খুলে ব্যাটের হাতলে রেখে নিজের স্মরণীয় এই সেঞ্চুরি উদযাপন করেন তিনি। ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ দলের জন্য এই সেঞ্চুরি কিছুটা স্বস্তির হলেও, দলের ইনিংসকে আরও কার্যকর করে তুলতে বাকি ব্যাটারদেরও কার্যকর অবদান রাখতে হবে। প্রথম ইনিংসে এখন পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে, যিনি করেছেন ৩৪ রান। বিরতিতে যাওয়ার আগে হৃদয় ১৭১ বলে ১১টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে আজ (শনিবার) ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়িয়ে চমৎকার কিছুর ইঙ্গিত দিলেও মুশফিকের অপ্রয়োজনীয় একটি শটের কারণে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলতে গিয়ে শর্ট কাভার অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দেন মুশফিক। ফলে ব্যক্তিগত ৩৪ রানে তাকে সাজঘরে ফিরতে হয় এবং হৃদয়ের সাথে তার গড়া ৭৩ রানের জুটিটি ভেঙে যায়।

নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে নেমেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন লিটন দাস। দুটি দারুণ বাউন্ডারি আদায় করে নিলেও তার এই আক্রমণাত্মক মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে ফাঁদ পাতে ক্যারিবীয়রা। ওয়ারিকানের করা ফুল লেংথ ও অফ স্টাম্প বরাবর আসা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মুশফিকের মতোই কাভারে অবস্থানরত ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তারকা ফিল্ডার অত্যন্ত সহজ ভঙ্গিতে সেই ক্যাচ লুফে নেন। এরপর হৃদয় ও মেহেদি মিরাজের জুটি কিছুটা আশার আলো দেখালেও শেষ পর্যন্ত তা ৪১ রান করেই ভেঙে যায়।

বেশ সাবলীলভাবে ব্যাট করতে থাকা মিরাজ রোস্টন চেজের বলে আগেই প্যাডেল শট খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যার ফলে বল ব্যাটে সঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় আকাশে ক্যাচ উঠে যায়, আর প্রথম স্লিপ থেকে দ্রুত দৌড়ে এসে দারুণ এক ড্রাইভিং ক্যাচ লুফে নেন জাস্টিন গ্রিভস। মাত্র ১৬ রান করেই থামতে হয় মিরাজকে। এর মাত্র ৬ রান ব্যবধানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় হাসান মাহমুদকেও। ওয়ারিকানের করা বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলটি তার ব্যাটের আলতো স্পর্শ নিয়ে সোজা উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে জমা পড়ে। এই পতনের ফলে ১৮৪ রান তুলতেই নিজেদের সপ্তম উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। তবে বর্তমানে হৃদয়ের সাথে উইকেটে ১ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ