আজ ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৭ নভেম্বর): দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন—‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। আজ ৭ নভেম্বর, যথাযোগ্য মর্যাদা এবং নানা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় দেশব্যাপী সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিপত্র অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ দেশে সাধারণ ছুটি বলবৎ রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও জাতীয় দিবস উদযাপন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকাতে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন থেকে প্রতি বছর নিয়ম মেনে জাতীয়ভাবে এই দিবসটি পালন করা হবে।

প্রবর্তিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি ও আধা-সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই ছুটির আওতাভুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব তফশিলি ব্যাংক আজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্যও বড় ধরনের সুসংবাদ রয়েছে; জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে আজ বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, যেখান থেকে সরকারপ্রধান এই র‌্যালির সূচনা করবেন।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও মহানগরে আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকালে উদ্বোধনী বক্তব্যের পরপরই এই শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা জানান তিনি।

রুট সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নয়াপল্টন থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘মূল শোভাযাত্রার আগে সকাল সাড়ে আটটায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রীসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।’ রাজধানীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরেও দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মতো নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শোভাযাত্রাটি সফল করতে মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি আগে থেকেই সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছে। ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্রপতির বাণীতে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ধরনের ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা এবং প্রকৃত গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তিনি তার বাণীতে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমেই দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছিল এবং সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছিল। সে সময় স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির সেই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার।

সিপাহি ও জনতার এই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ—উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। আর ঠিক একই ধরনের চেতনা পুনর্জাগরিত হয়েছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়। সে সময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে আবারও রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ।

অন্যদিকে, দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের সঠিক পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমেই তাদের চরম পরাজয় ঘটেছিল।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে এই ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনার সময় একটি প্রবাদবাক্য সবসময় প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দুচোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা কেবল ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনা করতে গিয়ে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি বড় ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরেই ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। এমনকি বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। তবে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সকল সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকায় সুসজ্জিত করা হয়েছে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে সুবিধাজনক সময়ে দেশের সকল মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সকল সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সব শিশু পার্ক শিশুদের জন্য দিনব্যাপী বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং সিনেমা হল ও ভ্যানযোগে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশাত্মবোধক গানের আসর, সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়েছে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরসমূহে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হয়েছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার ছয় ঘণ্টার জন্য টোল ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পেরেছেন যানবাহন চালকেরা। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর ছিল। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। দিবসটি উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনাও জারি করেছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনটিতে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার মিলিত এক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। ওই মহান বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদী শক্তির সব ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল এবং সুসংহত হয়েছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। সে কারণেই ৭ নভেম্বরের এই দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর ৩, ৪ ও ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ কার্যত সরকারবিহীন অবস্থায় ছিল। এই সংকটময় সময়ে কুচক্রীরা সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে তাঁর বাসভবনে বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু ৬ নভেম্বর রাতে সংঘটিত সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে নস্যাৎ হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। টানা চার দিন বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পান জিয়া। এরপর রেডিওতে ভেসে ওঠে তাঁর সেই ঐতিহাসিক কণ্ঠস্বর—‘আমি জিয়া বলছি’। ভাষণে তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের সেই সংক্ষিপ্ত, আবেগপূর্ণ ও সময়োচিত ভাষণ দেশের সাধারণ মানুষকে প্রবলভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মারুফ কামাল খান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি ছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে এই তারিখটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে উজ্জ্বল ও ভাস্বর হয়ে আছে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট গাজীউল হাসান খান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনা অধিনায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের জীবন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তাই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একটি স্মরণীয় তারিখই নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে এটি এক তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়। আর এই পুরো অধ্যায়ের মূল নায়ক ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। সূত্র: বাসস

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ