জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতি চায় বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৮ অক্টোবর): জাতিসংঘে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং সুশাসনের মূল কেন্দ্রে মানবাধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

উন্নয়ন অগ্রগতির মূল্যায়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাপকাঠিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, তা সমতা, মানুষের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কতটা ভূমিকা রাখছে—তার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করে দেশটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে এই আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় প্রেরিত এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাকে আরও ত্বরান্বিত করে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায়সংগত করব্যবস্থা চালু, সাশ্রয়ী উপায়ে উন্নয়ন অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ঋণের স্থায়িত্ব রক্ষা এবং বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য।

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সংলাপে সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন, সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক ঋণের বোঝা এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য আজ বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশিষ্ট বক্তারা কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও বেশি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক কর কাঠামো, ঋণ পুনর্গঠনে সমতা আনয়ন, জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নীতিনির্ধারণে নাগরিক সমাজের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেন।

চলমান সংঘাত, বৈদেশিক ঋণের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চাপ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা হ্রাসের কারণে শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলেও সভায় আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের স্থায়ী মিশনগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে আরও বক্তব্য দেন মরক্কোর রাষ্ট্রদূত ওমর হিলালে, উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসের, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত এমক্সোলিসি এনকোসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্তাভরোস লামব্রিনিদিস। এ ছাড়া মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও সাইস, অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আতিয়া ওয়ারিসও আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন রূপরেখা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থায় মানবাধিকারের মৌলিক নীতিগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সূত্র: বাসস    

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ