প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বেগম খালেদাকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে আহতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৫ মে) : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর ও ভাসুরের বিরুদ্ধে। আহত গৃহবধূ মোছা. মিরা খাতুন (২০) বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের আমলসার গ্রামের মো. মহাসিন বিশ্বাসের ছোট মেয়ে মোছা. মিরা খাতুনের সঙ্গে সারঙ্গদিয়া গ্রামের মো. সাহেব আলী শেখের ছেলে মো. রোমান আলী শেখের বিয়ে হয় ২০২৪ সালের ১৯ জুন পারিবারিকভাবে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক।

আহত মিরা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের দুই-তিন মাস পর তার স্বামী জমি কেনার কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন। পরে তার বাবা দুটি গরু বিক্রি করে এক লাখ টাকা দেন, যা তিনি স্বামীর হাতে তুলে দেন।

মিরা খাতুন আরও জানান, তাদের সংসারে সাত মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তান জন্মের পর থেকেই স্বামী, শ্বশুর ও ভাসুর তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া তার স্বামী এর আগেও দুটি বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন মিরা।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় তার স্বামী রোমান আলী শেখ, ভাসুর ইমরান আলী শেখ ও শ্বশুর সাহেব আলী শেখ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় মিরা খাতুন তাদের এমন মন্তব্য করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, তিনি বিএনপি সমর্থক পরিবার থেকে এসেছেন।

এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী প্রথমে তাকে চড় মারেন। পরে ঘর থেকে কাঠের বাটাম এনে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে ভাসুর ও শ্বশুরও লোহার রড দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করেন এবং বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে যান বলে দাবি মিরার।

পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি ফোনে খবর দিলে মিরার বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে আহত মিরা খাতুনের বাবা মো. মহাসিন বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর রাতে তিনি শ্রীপুর থানায় মামলা করতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া শ্রীপুর থানার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ