খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনে দিনাজপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক (দিনাজপুর), এবিসিনিউজবিডি, (১৬ মার্চ) : খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পরে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার নির্ধারিত কর্মসূচিস্থানের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান খাল কাটা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানেই আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। বেলা সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর পৌরসভার উপশহরে শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন। বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউজ চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি।

সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা খালগুলো পুনরুদ্ধার, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ উপলক্ষে দিনাজপুরের কাহারোল এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাল কাটা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৃতপ্রায় জলপথ পুনরুজ্জীবিত হবে এবং কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম খাল খননের উদ্যোগ নেন। যা ‘জিয়া মডেল’ নামে পরিচিতি পায়।

জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গৃহীত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। ১৯৭৭-৮১ সাল পর্যন্ত দেড় হাজার খাল খনন করেন। ২৭৯ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সেজন্য এসব সংকট নিরসনে সরকার খাল খননের উদ্যোগ নেয়।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ