‘সন্ত্রাসীদের নজরদারিতে রেখে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৩ মে) : রাজধানীতে একসময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য তৎপরতা এখন আগের মতো নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
তার ভাষ্য, বর্তমানে কিছু মাঝারি পর্যায়ের সন্ত্রাসী বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলেও তারা মূলত নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায়, সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের হামলার ঘটনা তুলনামূলক কম। তবে এসব অপরাধী চক্রকে নজরদারিতে রেখে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (০৩ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় রাজধানীতে চাঁদাবাজ, মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়া বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর কথাও জানান তিনি।
গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে দুইদিনে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও তাদের ৯৪ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, পুলিশের মূল গুরুত্ব থাকবে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায়।
মো. সরওয়ার বলেন, অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়াসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ‘সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল’ নেওয়া হয়েছে। এজন্য চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান, আকস্মিক ব্লকরেইড, চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসিটিভির মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডিবি, সিটিটিসির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা ঠেকাতে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্তও জোরদার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, শনিবার ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ছোটখাটো বিক্রেতাদের বদলে বড় বড় মাদকের চালান জব্দ করা হচ্ছে। সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে তাদের পেছনের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বসিলা ও কারওয়ানবাজারে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।
চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, চাঁদাবাজ চাঁদাবাজই। তার পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সে অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের ছাড়াতে কেউ তদবির করলে তা গ্রহণ করা হবে না। বরং যারা তদবির করবে, তাদেরও অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে দেখা হবে।
মনোয়ারুল হক/
