আগামী বুধবার পর্যন্ত সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩ মে) : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তাই নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী তিন দিন এই অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এমন প্রেক্ষাপটে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (৩ মে) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত বন্যা পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর অববাহিকার নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোনা জেলার ভুখাই-কংস নদী জারিয়া-জাঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কমলাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল রয়েছে। ভুলাই-কংস নদীর পানি সমতল কিছুটা হ্রাস পেয়েছে; ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। তৃতীয় দিন থেকে কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি সমতল প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। নালজুর নদীর পানি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে এবং নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। ভুগাই-কংস নদীর পানি নেত্রকোনার জারিয়া-জাঞ্জাইল পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার, মগরার পানি নেত্রকোনা পয়েন্টে ৮২ সেন্টিমিটার, মগরার পানি আটপাড়া পয়েন্টে ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার খনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বাউলাই নদী নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ী পয়েন্টে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নেত্রকোনা জেলার বাউলাই নদীর অববাহিকার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই, সুতাং এবং মৌলভীবাজার জেলার মনু ও জুড়ী নদীর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। খোয়াই ও জুড়ী নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। মনু নদীর পানি সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে মৌলভীবাজার জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।

ময়মনসিংহ-সিলেট-চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস
বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় আজ রবিবার ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

গতকাল এই কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

আগামী ৬ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ