শ্রীপুরে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতারণা, মামলা দায়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (১ মার্চ) : মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ও ভুয়া “ফ্যামিলি কার্ড” দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে মনিকুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছে।
ভুক্তভোগী অনুপ জোয়ারদার (২২), পিতা অজিত জোয়ারদার, গ্রাম- শ্রীপুর হুদা, থানা- শ্রীপুর, জেলা- মাগুরা জানান, গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে মনিকুমার বিশ্বাস (পিতা: বীরেন বিশ্বাস, সাং- মালদা, থানা- শ্রীপুর, জেলা- মাগুরা) নিজেকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক-এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাদের বাড়িতে যান।
তিনি দাবি করেন, সরকার ঘোষিত “ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড” করে দিলে এককালীন ২ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাওয়া যাবে। এজন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। প্রথমে অনুপের বাবা-মা রাজি না হলেও নানা প্ররোচনায় তারা নগদ ১২ হাজার টাকা দেন। পাশাপাশি এনআইডি কার্ড, ছবি ও জমির কাগজপত্রও নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীপুরে আসতে বলা হলে অভিযুক্তরা তাদের কাজলী বাজার সংলগ্ন একটি স্কুল মাঠে বসিয়ে রেখে চা খাওয়ার কথা বলে সটকে পড়ে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিকুমার কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা নন; বরং একটি প্রতারক চক্রের সদস্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজলী বাজার এলাকায় মনিকুমারকে দেখতে পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে সে অনুপের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা একটি প্যাকেট খুলে আরও ১০-১৫ জনের এনআইডি কার্ড, ব্যাংকের ব্ল্যাঙ্ক চেক এবং কৃষি ব্যাংকের নামে তৈরি কিছু নকল কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
উপস্থিত সাক্ষী আশিষ বিশ্বাস ও আবু সাইদের সামনে মনিকুমার প্রতারণার কথা স্বীকার করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে শ্রীপুর থানায় সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় অনুপ জোয়ারদার বাদী হয়ে মনিকুমার বিশ্বাসকে ১ নম্বর আসামি করে এবং আরও ২/৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতারণা করে আসছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সাধারণ মানুষকে কোনো সরকারি সুবিধা বা ব্যাংকিং সেবার নামে নগদ টাকা লেনদেন না করার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মনোয়ারুল হক/
