বিপিএল: শেষ বলে ওকসের ছয়, রংপুরকে হারিয়ে কোয়ালিফায়ারে সিলেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২০ জানুয়ারি) : শেষ বলে প্রয়োজন ৬ রানের। স্ট্রাইকিং প্রান্তে সিলেট টাইটান্সের ইংলিশ রিক্রুট ক্রিস ওকস। বোলিং প্রান্তে রংপুর রাইডার্সের পাকিস্তানের ফাহিম আশরাফ। আগের ৫ বলে মাত্র ৩ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন ১টি। পাল্লা ভারী রংপুরেরই। কারণ ওকস মূলত বোলার। ৩ বল খেলে করেছেন ৪ রান। শেষ বলে টানটান উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার সমাপ্তি টানেন ওকস মিড অফ দিয়ে ছক্কা মেরে। ব্যাটে-বলে সংযোগ হওয়ার পরই বল বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে যায় সীমানার ওপর দিয়ে। ওকসও আন্দাজ করতে পেরে আঙুল উঁচিয়ে ধরেন। এদিকে ডাগ আউট থেকে অধিনায়ক মিরাজের নেতৃত্বে সিলেটের খেলোয়াড়রা যেন নেমে পড়েন ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায়। মিরাজ গিয়ে লাফ দিয়ে কোলে উঠে পড়েন ওকসের। অন্যরাও তখন যে যার মতো করে উল্লাসে মাতোয়ারা। বিপরীতে রংপুর শিবির তখন হতাশায় নিমজ্জিত। রংপুরকে বিদায় করে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিলেট টিকে থাকল ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে সিলেট বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয্যালসের আজকের কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে।

লো-স্কোরিং ম্যাচও যে এ রকম হাইভোল্টেজ হতে পারে, সেটিই দেখা গেল সিলেট ও রংপুরের ম্যাচে। সিলেট টস জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে তাদের ৯ উইকেটে মাত্র ১১১ রানে আটকে রাখে। সেই রান তাড়া করতে নেমে ম্যাচকে শেষ বল পর্যন্ত টেনে নিয়েছিল সিলেট।

টার্গেট ছোট হলেও সিলেটের শুরুটা ভালো ছিল না। শুরুতেই তৌফিক খান তুষার (২) আউট হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পারভেজ হোসেন ইমন ও আরিফুল ইসলাম দেখেশুনে এগুচ্ছিলেন। ৪.৫ ওভারে ৩৬ রান যোগ হওয়ার পর জুটি ভাঙে ইমন ১২ বলে ১৮ রান করে আউট হলে। কিন্তু তিনি আউট হওয়ার পর দ্রুত আরিফুল (১৭) ও আফিফ (৩) বিদায় নিলে সিলেট বিপদে পড়ে। মাত্র ৮ রানে তারা হারায় ৩ উইকেট। কিন্তু ইংল্যান্ড থেকে উড়ে আসা স্যাম বিলিংস ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ সাবধানতার সঙ্গে ব্যাটিং করে দলকে ধীরে ধীরে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৯ ওভারে ৫০ রান যোগ হওয়ার পর খুশদিল শাহকে ডাউন দ্য উইকেট খেলতে এসে মিরাজ (২৩ বলে ১৮) নুরুল হাসান সোহানের স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন। মিরাজ আউট হওয়ার ৩ রান পর বিলিংসও আউট হয়ে যান ৪০ বলে ২৯ রান করে। মঈন আলী থাকায় সিলেটেরই পাল্লা বেশি ভারী ছিল। শেষ ওভারে তাদের প্রয়োজন পড়ে ৯ রানের। ফাহিম আশরাফের করা ওভারের প্রথম ৩ বলে ২ রান নিয়ে চতুর্থ বলে মঈন আলী (৫) আউট হলে সিলেটের জন্য ম্যাচ কঠিন হয়ে পড়ে। পঞ্চম বলে খালেদ ১ রান নেওয়ার পর ওকস পান শেষ বলের স্ট্রাইক। যাকে তিনি ছক্কায় পরিণত করে দলকে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দেন ৩ বলে অপরাজিত ১০ রানের ইনিংস খেলে। রংপুরের মোস্তাফিজ ও আলিস ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন।

সিলেটকে ম্যাচ জিতিয়েছেন মূলত বোলাররা। রংপুরের মতো শক্তিশালী দলের ব্যাটিং লাইনকে পুরো ২০ ওভার খেলতে দিয়ে রান করতে দেন ৯ উইকেটে মাত্র ১১১। তাদের ইনিংসকে পেটমোটা হতে দেননি ম্যাচসেরা সৈয়দ খালেদ আহমেদ। তার সঙ্গে শামিল হন প্রথমবারের মতো খেলতে নামা ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস ও পাকিস্তানের সালমান ইরশাদ। এই তিনজন মিলেই রংপুরের পতন হওয়া ৯ উইকেটের ৭টিই তুলে নেন। বেশি  আগ্রাসী ছিলেন খালেদ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ওকস ১৫ রানে ২টি ও সালমান ১৯ রানে নেন ১টি উইকেট। রংপুরের অপর ২ উইকেট নেন স্পিনার নাসুম আহমেদ ১২ রান দিয়ে।

রংপুরের ইনিংসে আঘাত শুরু করেন খালেদ। পরে যোগ দেন ওকস। দুইজনে ইনিংসের প্রথম ৩ ওভারেই তুলে নেন ৩ উইকেট। এ সময় একে একে বিদায় নেন দুই ওপেনার তাওহিদ হৃদয় (৪), ডেভিড মালান (৪) ও অধিনায়ক লিটন দাস (১)। খালেদ তার প্রথম ও দ্বিতীয় ওভারে হৃদয় ও লিটনকে এবং ওকস তার প্রথম ও ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মালানকে শিকার করেন। এই তিনজনের ক্যাচই ধরেন উইকেটকিপার পারভেজ হোসেন ইমন। মালান আউট হওয়ার সময় দলের রান ছিল ৩.৪ ওভারে ৩ উইকেটে মাত্র ১১। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে তারা আর কোনো উইকেট হারায়নি। রান উঠে ৩ উইকেটে ২৯।

ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি আসে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ওকসের বলে খুশদিল শাহর ব্যাট থেকে। পরের ওভারে তিনি মঈন আলীকে একটি ছক্কাও মারেন। খুশদিল শাহ ও কাইল মায়ার্স উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু খুব বেশি দূর যেতে পারেননি। দলীয় ২৯ ও ব্যক্তিগত ৮ রানে মায়ার্সকে ফেরান পেসার সালমান ইরশাদ।

২৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর খুশদিল ও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রংপুরের ইনিংস মেরামত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার আঘাত হানেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। তিনি ফিরিয়ে দেন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠা খুশদিলকে। তিনি ১৯ বলে ৩ ছক্কায় ৩০ রান করেন।

খুশদিল আউট হওয়ার পর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ চেষ্টা করেছিলেন দলের রান বাড়াতে। কিন্তু তিনিও খুব বেশি দূর যেতে পারেননি। ২৬ বলে ২টি করে চার ও ছয়ে ৩৩ রান করার পর তাকে আউট করেন নাসুম আহমেদ। পরবর্তী সময়ে নুরুল হাসান সোহানের ২৪ বলে ১৮ রান রংপুরের দলীয় সংগ্রহ শতক পার করে। রংপুরের এই ৩ জন ছাড়া আরে কোনো ব্যাটার দুই অংকের ঘরে যেতে পারেননি। ডট বল ছিল ১২০টির মধ্যে ৫৮টি। তবে ছক্কা ছিল চারের চেয়ে বেশি। ৬ ছক্কার বিপরীতে বাউন্ডারি ঠিক অর্ধেক ৩টি।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ