নির্বাচন ঠিক করবে, দেশ গণতন্ত্রকামী নাকি উগ্র রাষ্ট্রবিরোধীদের হাতে থাকবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২০ জানুয়ারি) : এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে—দেশ উদার গণতন্ত্রকামীদের হাতে থাকবে নাকি উগ্রপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে।

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এই সভার আয়োজন করে।

সভায় দেশের কল্যাণে আসন্ন নির্বাচনে উদারপন্থী গণতন্ত্রের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।

বিএনপি ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। আমরা জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। আর যদি বাদ দেয়, আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন ভাই?’

ধানের শীষকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফা, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব যে ৮ দফা দিয়েছেন, আবার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড—এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। ধানের শীষকে যদি আমরা জয়যুক্ত করি, তাহলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে, আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করেন; সিধা রাস্তায় করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভুল বুঝিয়ে নয়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে! তাহলে আর নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, ঈমান আনা—এগুলো দরকার নাই নাকি!’

জামায়াতে ইসলামী ‘মুনাফেকি করে মানুষকে ভুল বোঝায়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে প্রতিটি মানুষ ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের রাজনীতি, তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে, তা গ্রহণ করার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। তখন তারা (জামায়াত) আবার বিভ্রান্তি সৃষ্ট করছে ধর্মের নামে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে নির্বাচন হবে কি না, নির্বাচন করতে দেব না, কত কী বলেছিল। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন, তাদের তিনটা ভোট নাই। তারা বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। নির্বাচন হোক, দেখা যাবে কে কতটা ভোট পায়।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। ২০২২ সালে আমরা এই সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা যা যা বলেছি, সবই আজকে এখানে আছে। এই সংস্কার নিয়ে অনেকে আমাদের প্রশ্ন করে “আপনারা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে।” এটা তো আমাদের ব্রেন চাইল্ড। সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই হ্যাঁ-তে আছে।’

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিংয়ের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ