রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে খসড়া নিয়ে সাক্ষাৎ করবে ইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৫ ডিসেম্বর) : জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্বিক প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এবার তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা। রেওয়াজ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার আগে শুধু রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ইসি। এবার তফসিলের খসড়া নিয়ে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। তবে সাক্ষাতের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছে কমিশন। এরপর যেকোনো সময় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
একসঙ্গে দুই ভোটের তফসিল এবং নির্বাচন প্রস্তুতির নানা দিক, রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব, দলগুলোর পরামর্শ, আরপিও সংশোধন, নতুন দলকে নিবন্ধন দেওয়ার শেষমুহূর্তের কাজ, সব মিলিয়ে নানামুখী চাপে ইসি। সব ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল এবং আগামী বছরের ৮-১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটের দিন নির্ধারণ করতে আগামী ৭ ডিসেম্বর কমিশন সভায় তফসিলের খসড়া চূড়ান্ত করবে সংস্থাটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তফসিলের খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর ৭-৯ ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী সুবিধামতো যেকোনো সময়ে কমিশন চাইছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বসে পুরো পরিস্থিতি তাকে ব্যাখ্যা করতে। তফসিল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য এই সাক্ষাৎকে ইসি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে। অন্যদিকে প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের তারিখ ইতোমধ্যেই ১০ ডিসেম্বর চূড়ান্ত হয়েছে। ওই দিন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ সব কমিশনার বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনি প্রস্তুতি জানাবেন। সেখান থেকেই মূলত তফসিল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলবে।
৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ কমিশন সভা, যেখানে তফসিলের সম্ভাব্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ- সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সেদিনই নির্ধারিত হবে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিমূলক কাঠামো। ইসির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটির আগে বা পরের কার্যদিবসে ভোট নির্ধারণের প্রবণতা এবারও বিবেচনায় রয়েছে। সেই হিসাবে ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর যেকোনো সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। একই সঙ্গে এবার ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় আছে।
নতুন দুটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও মিলতে পারে এবারের কমিশন সভায়। এ ছাড়া রাজনৈতিক সমতা ও সংবেদনশীল সময় বিবেচনায় এই প্রক্রিয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে ইসি। সংশোধিত আরপিও, নিরাপত্তাব্যবস্থার খসড়া, পর্যবেক্ষক নিয়োগ ও কিউআর কোড নির্ভর পরিচয় যাচাই, সব প্রস্তুতিই এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইসির দাবি, তফসিল ঘোষণার পর পরই মাঠপর্যায়ে তাদের প্রস্তুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মনোয়ারুল হক/
