ছাগল খুঁজতে গিয়ে স্বর্ণের খনি আবিষ্কার, কেনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে হঠাৎ উন্মাদনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৪ আগস্ট): গত দুই বছর ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে। কিন্তু কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই যদি চোখের পলকে বিনা মূল্যে সোনার টুকরো কুড়ানোর সুযোগ মিলে যায়, তবে কেমন হবে? ঠিক এমনই এক অবিশ্বাস্য ও রূপকথার মতো ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার একটি অচেনা গ্রাম।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনিয়ার ওয়েস্ট পোকোট কাউন্টির কাপেঙ্গুরিয়া এলাকার কেনিয়ারওয়াত অঞ্চলের ‘চেপোরোর’ গ্রামে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে অভাবনীয় ‘গোল্ড রাশ’ বা স্বর্ণ খোঁজার উন্মাদনা। ভাগ্য বদলের একবুক আশা নিয়ে গত দুই সপ্তাহে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এই ছোট্ট গ্রামে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। রাতারাতি বদলে যাওয়া এই পরিস্থিতি এখন পুরো কেনিয়া জুড়েই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই উন্মাদনার পেছনে রয়েছে এক ছাগল পালকের দুর্ঘটনাবশত স্বর্ণ পাওয়ার গল্প। ৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার নামের এক কৃষক তার হারিয়ে যাওয়া সোনা খুঁজতে নদীর তীরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কয়েকজন নারীকে নদীর কাদা-মাটি ছেঁকে স্বর্ণ খুঁজতে দেখেন। লোমাচার জানান, আমি তাদের সঙ্গে যোগ দিই এবং এভাবেই এলাকার মানুষ জানতে পারে যে এখানে সোনা রয়েছে।
লোমাচার নদী থেকে ৩ গ্রাম ওজনের একটি সোনার টুকরো উদ্ধার করেন এবং কয়েক সপ্তাহ আগে সেটি ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে (মুদ্রায় প্রায় ৩৪,০১৫ টাকা) বিক্রি করেন।
এই আবিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কেনিয়া এবং পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডা থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্রোত নেমে আসে গ্রামটিতে। স্থানটি দুর্গম হলেও কেবল কিছুটা বাড়তি আয়ের আশায় কোদাল, চালুনি ও পাত্র হাতে মানুষ নদী ও এর আশেপাশের মাটিতে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণত এসব অঞ্চলে অতিক্ষুদ্র পরিমাণে সোনা পাওয়া গেলেও, এবার বেশ কিছু বড় স্বর্ণের টুকরো মেলার খবরেই এই মানুষের ঢল নেমেছে। তবে এই স্বর্ণের মজুত ঠিক কতটা বিশাল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিদিন অন্তত ১০০ জন ছোট আকারের স্বর্ণের ব্যবসায়ী এখানে লেনদেন করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তা স্যামুয়েল কিয়ারি।
হঠাৎ বিশাল জনস্রোতের কারণে গ্রামটিতে খাবারের দোকান, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির জন্য প্রায় ২০০টিরও বেশি নতুন অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। তবে এই অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে ছোট এই গ্রামটিতে তীব্র সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সংকট দেখা দিয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
