অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১০ জুন) : দেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র বদলে দিতে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বমানের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই কথা বলেন। আজ বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বিশেষ এই অধিবেশনটি শুরু হয়।
তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। সেইভাবেই আমরা চেষ্টা করছি এবারকার বাজেটটি তৈরি করতে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এরই অংশ হিসেবে সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর হতে এখন সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদকরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
‘রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের অশুল্ক বাধা দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ডেড এবং নন-বন্ডেড সকল প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরো সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।’
‘আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি শিথিল করা হচ্ছে। এখন থেকে সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে।’
বিনিয়োগকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করতে সরকার এক বিশাল কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, অনেক সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা স্থানান্তর, শেয়ার বিক্রয় কিংবা ব্যবসা বন্ধ করার পর মূলধন ও অর্জিত লভ্যাংশ নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হন। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিবেশ আরো আকর্ষণীয় করতে মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত ‘মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’ বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’
একই সঙ্গে বিনিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা আরো দ্রুত, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে সরকার লাইসেন্সিং ও যাবতীয় অনুমোদন প্রক্রিয়ারও ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে প্রথম ৩০ মিনিট হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোপর্ব। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল তারকা চিহ্নিত ৫টি প্রশ্ন। এরমধ্যে ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারকা চিহ্নিত তিনটি প্রশ্ন এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
মনোয়ারুল হক/
