ঢাকার ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার নজরদারি, বদলে যাচ্ছে সড়কের চিত্র

বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৮ মে) : রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়কে যানজট, সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচল কিংবা বেপরোয়া গাড়ি চালানো দীর্ঘদিনের পরিচিত দৃশ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আধুনিক ক্যামেরা নজরদারির আওতায় আসায় অনেক চালকের আচরণে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কজুড়ে স্থাপন করা হচ্ছে স্মার্ট নজরদারি ক্যামেরা, যা শুধু ভিডিও ধারণই করে না; বরং যানবাহনের গতি, লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ এবং সন্দেহজনক গতিবিধিও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত মানবনির্ভর ট্রাফিক তদারকির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল মহানগরীতে কেবল জনবল দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর রাখা কঠিন। এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সড়কের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা বাড়তে পারে।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ক্যামেরা নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। কোনো যানবাহন লালবাতি অমান্য করলে, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে বা ভুল লেনে চললে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা শনাক্ত করতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করার প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে নিয়ম ভঙ্গকারী যানবাহনের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ সহজ হওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমও গতিশীল হতে পারে।

ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যেখানে প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি জোরদার হয়েছে, সেখানে কিছু চালকের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। অনেকেই সিগন্যাল মেনে চলা, নির্ধারিত লেনে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণে বেশি সচেতন হচ্ছেন।

তবে সব সমস্যা যে রাতারাতি সমাধান হয়ে গেছে, তা নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও যানজট, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং পথচারীদের অসচেতনতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়েছে।

এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাকে অনেকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্য সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকের তথ্য নিরাপদ রাখা, তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা নির্ধারণ এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় আধুনিক প্রযুক্তির সুফলের পাশাপাশি নতুন ধরনের উদ্বেগও তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এখন বাস্তবতা। ঢাকাতেও ধীরে ধীরে সেই ধারার প্রয়োগ বাড়ছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের ধারণা, কার্যকর পরিকল্পনা, সমন্বিত ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলে এআই প্রযুক্তি রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশাল জনসংখ্যা ও সীমিত সড়ক অবকাঠামোর শহর ঢাকায় প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— সড়কে এখন শুধু ট্রাফিক পুলিশ নয়, নজর রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ