৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিলো সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৮ মে) : রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতির পরও, আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জন্য ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিলো সরকার।
এর মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি, বিদেশি ঋণ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে।
যেখানে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় নতুন এ এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
৫ আগস্ট অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজস্ব আদায়ে তলানিতে রয়েছে বাংলাদেশ। পরিচালন ব্যয় সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে এই সরকার। রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতির মাঝেই রেকর্ড এডিপির অনুমোদন দিলো সরকার। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির দ্বিগুণ। নতুন এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ৬৩ শতাংশ, বিদেশি সাহায্য ৩৬ শতাংশ এবং এক শতাংশ সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন।
বিশাল আকারের এই এডিপিতে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘উচ্চাভিলাষ থাকতে হবে। তা না থাকলে সামনে আগানো যাবে না। ভঙ্গুর অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য বড়ো আকারের এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
নতুন এডিপিতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে। যোগাযোগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকলেও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকছে শিক্ষা। আর তৃতীয় অবস্থানে স্বাস্থ্যখাত। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতেই বিশাল এডিপি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এডিপিতে বরাদ্দের শীর্ষ তিন খাত হচ্ছে- যোগাযোগে ৫০ হাজার ৯২১ কোটি, শিক্ষায় ৪৭ হাজার ৫৯১ ও
স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।
এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকাই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য। আর কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া, সভায় আগামী পাঁচ বছরের বাস্তবায়নযোগ্য কৌশলপত্রে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
