ট্রাম্প আতঙ্কে বার্ষিক সম্মেলনের প্রথা ভাঙছে ন্যাটো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৯ এপ্রিল) : ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন কোনো ঝামেলা এড়াতে বার্ষিক সম্মেলন বন্ধের কথা ভাবছে ন্যাটো। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ বছরে তার সঙ্গে মুখোমুখি কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে জন্যই এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা ভাবছে পশ্চিমা এই সামরিক জোট।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ন্যাটোর ছয়টি উচ্চপদস্থ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ৩১ সদস্যের এই প্রতিরক্ষা জোটের অনেক সদস্যের কঠোর সমালোচনা করে আসছে। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে পর্যাপ্ত সহায়তা না করায় তিনি কিছু দেশের ওপর বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কেন এই সিদ্ধান্ত?
ন্যাটোর ৭৭ বছরের ইতিহাসে শীর্ষ সম্মেলনের সংখ্যা বিভিন্ন সময় পরিবর্তন হয়েছে। তবে ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর গ্রীষ্মে নেতারা বৈঠক করছেন। এ বছরও ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সম্মেলন হওয়ার কথা।

তবে ন্যাটোর একজন ঊর্ধ্বতন ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং পাঁচজন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কিছু সদস্য দেশ এখন এই সম্মেলনের সংখ্যা কমিয়ে আনার পক্ষে মত দিচ্ছে।

একজন কূটনীতিক বলেন, ‘২০২৭ সালের সম্মেলন আলবেনিয়ায় শরৎকালে হতে পারে। এ ছাড়া ২০২৮ সালে বছর যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন বছরে সম্মেলন নাও হতে পারে।’ আরেকজন বলেন, ‘কিছু দেশ দুই বছর পরপর সম্মেলন চায়। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন মহাসচিব মার্ক রুটে।’

অভ্যন্তরীণ আলোচনা হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করেনি। রয়টার্সের প্রশ্নে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ন্যাটো রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়মিত বৈঠক চলবে। সম্মেলনের মাঝেও সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেবে।’

দুটি সূত্র ট্রাম্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও কয়েকজন বলেন, ‘এর পেছনে বড় কিছু বিষয়ও রয়েছে।’ অনেক কূটনীতিক মনে করেন, প্রতিবছর সম্মেলন হলে চোখে পড়ার মতো ফল দেখানোর চাপ বাড়ে। এতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাধা পড়ে। একজন কূটনীতিক স্পষ্ট করেই বলেন, ‘খারাপ সম্মেলনের চেয়ে কম সম্মেলন হওয়া ভালো।’

ন্যাটো বৈঠকে ট্রাম্পের দীর্ঘ প্রভাব
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের ফেলো ফিলিস বেরি বলেন, বড় সম্মেলন কমালে ন্যাটো কাজের দিকে বেশি মন দিতে পারবে। এতে সাম্প্রতিক বৈঠকের নাটকীয়তাও কমবে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক লেখায় তিনি বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় ন্যাটো মাত্র আটটি সম্মেলন করেছিল। অথচ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রথম তিনটি সম্মেলন ছিল বিতর্কপূর্ণ। সেখানে মিত্রদের কম প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে তার অভিযোগই বেশি ছিল।

গত বছরের দ্য হেগ সম্মেলনেও ট্রাম্পের প্রভাব ছিল। তিনি সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে বাড়াতে বলেন। শেষ পর্যন্ত তারা ৩.৫ শতাংশ মূল প্রতিরক্ষা ও ১.৫ শতাংশ নিরাপত্তা খাতে ব্যয়ে রাজি হয়। কোনো বড় ঝামেলা ছাড়াই সেই সম্মেলন শেষ হওয়াটাকেই বড় সাফল্য মনে করেন অনেকে।

চলতি বছরের সম্মেলনও উত্তপ্ত হওয়ার আভাস মিলছে। মিত্রদের না জানিয়েই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে ন্যাটো দেশগুলো সমর্থন না দেওয়ায় তিনি জোট ছাড়ার হুমকিও দেন। ২০১৮ সালেও তিনি একই হুমকি দিয়েছিলেন।

ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ তার বইতে লিখেছেন, ট্রাম্প যদি তখন সত্যিই জোট ছেড়ে যেতেন, তবে ন্যাটোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হতো।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ