কিউইদের উড়িয়ে সিরিজ বাংলাদেশের
ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৩ এপ্রিল) : ব্যাট হাতে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। শান্ত পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। বোলিংয়ে ফিরেই জাত চেনালেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর পেলেন প্রথম ফাইফারের দেখা। সব মিলিয়ে দুরন্ত এক বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় সিরিজ জয়, সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে ৩৮তম।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ড অল আউট ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রান। দারুণ সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮ উইকেটে নিয়ে সিরিজসেরা নাহিদ রানা।
লক্ষ্যে খেলতে নামা নিউজিল্যান্ড শুরু থেকেই ধুকেছে। পড়েছে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট। বল হাতে আগুনে শুরুটা করেন মোস্তাফিজুর রহমান। শুরুতেই বিদায় করেন ওপেনার হেনরি নিকোলসকে (৪)। এরপর তার সাথে যোগ দেন নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষের দিকে গতির ঝড় তুলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজ। বাংলাদেশের বোলিংকে শেষ পর্যন্ত ভুগিয়েছেন ডিওন ফক্সক্রফট। নিউজিল্যান্ডের নবম উইকেটের পতন ১৬০ রানে। সেখান থেকে একাই দলকে দুইশ পার করেন ডিওন।
মিরাজের বলে শেষ পর্যন্ত তিনি ক্যাচ দেন সাইফ হাসানের হাতে। সিরিজ নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। ৭২ বলে সাত ছক্কায় ৭৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন ফক্সক্রফট। ওপেনার নিক কেলিও পেয়েছেন ফিফটির দেখা। ৮০ বলে ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৫৯ রান করেন তিনি। মোহাম্মদ আব্বাস করেন ২৫ রান।
৯ ওভারে দুটি মেডেনে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। সেই ২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার ৫ উইকেট পেলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে যা ষষ্ঠবারের মতো। স্পর্শ করলেন ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্টকে। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে ওপরে কেবল মিচেল স্টার্ক, ৯ বার।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ও’রুর্কের বলে খোঁচা মেরে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকেও (১) বোল্ড করেন ও’রুর্কে। তিনে নামা সৌম্য সরকার ৩টি চারে ১৮ রান করে আশার আলো দেখালেও তিনিও রুর্কের শিকার। ফলে মাত্র ৩২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে স্বাগতিকরা
বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন শান্ত ও লিটন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার যোগ করেন ১৬০ রান। দীর্ঘ ১৯ ইনিংসের খরা কাটিয়ে ৭১ বলে ফিফটি তুলে নেন লিটন। সেঞ্চুরির পথে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জেইডেন লেনক্সের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে থামেন তিনি। ৯১ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কার মার।
লিটন ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। ১১৪ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া শান্ত ৪৩তম ওভারে আউট হওয়ার আগে করেন ১০৫ রান। ১১৯ বলের এই ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার। ওয়ানডেতে ২০ ম্যাচ পর শতকের দেখা পেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শেষ দিকে অধিনায়ক মিরাজের ১৮ বলে ২২ এবং হৃদয়ের ২৯ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসে আড়াইশ পার করে বাংলাদেশ। ৪৯তম ওভারে বেন লিস্টার জোড়া আঘাত হেনে শরিফুল ও তানভীরকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন।
মনোয়ারুল হক/
