শিক্ষা খাতে ১৬ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৩ এপ্রিল) : শিক্ষা খাতে দীর্ঘ ১৬ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উন্মোচনে শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়কালে সংঘটিত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো তদন্ত করে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রকাশে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় শ্বেতপত্র প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত শেষে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দ্রুতই শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে একই অধিবেশনে জাল ও ভুয়া সনদের অভিযোগে কলেজ পর্যায়ের ২০২ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত তদন্তে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে জাল সনদসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিআইএর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোট ২০২ জন কলেজ প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত ৭৪ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা ২০২৩ সালের জুলাই থেকে স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে এমপিওবিহীন ১২৮ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক তদন্ত ও নিরীক্ষায় আরও অনিয়ম ধরা পড়ায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৩০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলমান তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা দেশের শিক্ষা খাতকে দীর্ঘমেয়াদে সুশাসনের আওতায় আনতে সহায়ক হবে।
মনোয়ারুল হক/
