১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ শনিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২ এপ্রিল) : গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। আগামীকাল শনিবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
রাজধানীর গুলশানের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয়। বৈঠকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দেয় ১১ দলীয় জোটের শীষর্ নেতারা।
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যদি সংসদে গণভোটের সমাধান না করে তাহলে বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা করবে বিরোধী দল। একইসঙ্গে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা হবে। এরপরও সরকার জনমতকে উপেক্ষা করলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বিরোধী দল।
তিনি বলেন, সরকারি দল গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটা দুঃখজনক ঘটনা। এর মাধ্যমে যে প্রতিশ্রুতির আলোকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও নির্বাচন হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা হয়েছে, জাতিকে অপমান করা হয়েছে। জাতির সঙ্গে প্রতারণাও করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃত্ববাদ, স্বৈরাচার তৈরির রাস্তা উন্মুক্ত করে গেছে। সেই রাস্তায় শেখ হাসিনা সাংবিধানিক স্বৈরাচার হয়েছিল। সেই রাস্তায় বর্তমান সরকার হাঁটছে। এটা ভুল পথ। সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারই করতে হবে। সংস্কার করতে হলে গণভোট মানতে হবে। সেজন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। সরকার এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া বিরোধী দলের আর কোন বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারে ছলচাতুরী করছে। সরকার জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে প্রচার করলেও পেট্রল পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যায় না। আবার পরিবহন ব্যয় কমাতে সপ্তাহে তিনদিন অনলাইন ক্লাস করানোর কথা বলেছে। এটা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাশূন্য করার আরেকটি পাঁয়তারা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠের আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে কিছু আলাদা উপকমিটি করা হয়েছে। তারা আন্দোলনের উপযুক্ত সময় ও তারিখ ঠিক করবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মওলানা আতাউল্লাহ আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) প্রমুখ। মনোয়ারুল হক/
