উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক: এলজিআরডি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৬ জুলাই) : দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে তা অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুষম এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, শহর অঞ্চলের অগ্রগতি নিশ্চিত হলেও গ্রামীণ জনপদকে অবহেলিত রেখে কখনো প্রকৃত জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।

আজ (সোমবার) রাজধানীর ‘সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ (সিরডাপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষ্যে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এবারের আয়োজনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতে প্রথমবারের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে সিরডাপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতিবছর বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ সিরডাপ গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং দিবসটিকে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের যাত্রায় সিরডাপের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন- সংস্থাটি এ পর্যন্ত ২১৫টি গবেষণা এবং ৩৫০টি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। আট হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও প্রকাশনার মাধ্যমে বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজার অংশীজনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখছে সিরডাপ।

জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা এবং যুব বেকারত্বের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিরডাপ জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে বলে জানান এলজিআরডি মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরও ৪০টি দেশকে এর অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ চলছে।

বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান:

  • কৃষিঋণ মওকুফ: প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
  • অবকাঠামো উন্নয়ন: আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামগুলোকে প্রশাসনিক ও জনসেবার মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে, যা সেচব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব আনবে।
  • সামাজিক নিরাপত্তা: সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের সহজ শর্তে ভর্তুকি, ঋণ ও বিমা সুবিধা দিতে চালু হয়েছে ‘ফার্মার কার্ড’।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গ্রামীণ জীবনযাত্রার গুণগত মান পরিবর্তনে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পরিশেষে, তিনি সিরডাপের দীর্ঘ ৪৭ বছরের গৌরবময় সেবামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ