নিজ এলাকায় হাম পরিস্থিতি দেখতে এমপিদের পাঠানোর প্রস্তাব জাতীয় সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১ এপ্রিল) : হামের প্রকোপ সারাদেশে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ৯ মাসের আগেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে, এমনকি বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনাও।

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রস্তাব এসেছে মহান জাতীয় সংসদে।

মাগুরা ১ আসনের সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন বলেছেন, হাম এখন ‘মহামারী রূপ’ নিচ্ছে, এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সংসদে ছুটি দিয়ে এমপিদের মাঠে পাঠানো যেতে পারে।

বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন।

একই আলোচনায় আরও কয়েকজন সদস্য ক্ষতিপূরণ, শিক্ষা প্রশাসন, নদী খনন, সেতু ও আঞ্চলিক উন্নয়নসহ নানা দাবি তোলেন।

মনোয়ার হোসেন বলেন, তার এলাকায় ২০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হয়নি। হাসপাতালের দুটি লিফটই অকার্যকর, আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর মত প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে গুরুতর রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে।

এ অবস্থার মধ্যেই হামের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, “ইতোমধ্যে আপনারা জানেন, হাম রোগটা কিন্তু একটা মহামারীর রূপ ধারণ করেছে।”

এরপর তিনি সংসদে একটি তাৎক্ষণিক প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, “আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদকে ছুটি দেওয়া হোক, আমাদের সকল সংসদ সদস্য তার তার নিজ এলাকায় গিয়ে হাসপাতালে যাক এবং তারা তদারকি করুক কী পরিস্থিতি মানুষের চলছে।”

সব শহীদ পরিবারকে সমমর্যাদা দেওয়ার দাবি

চাঁদপুর ৫ আসনের সদস্য মো. মমিনুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে’ কথা বলেছেন, যা তিনি ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছেন।

একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের ব্যক্তিগত স্মৃতি তুলে ধরে তিনি তার বাবাকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গও সংসদে বর্ণনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করে মমিনুল বলেন, “আপনাদের প্রতি আমরা সশ্রদ্ধ সম্মান জানাই।”

জুলাই জাতীয় সনদের ৪ ও ৫ নম্বর দফার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ১৬ বছরের আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান সংসদ সদস্য মমিনুল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শহীদ পরিবারগুলো ২৫ লাখ টাকা করে সহায়তা পেলেও এর আগের সময়ের নিহত নেতাকর্মীদের পরিবার সেই সহায়তা পায়নি।

এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি আজকে মহান সংসদে অনুরোধ করব, সকল শহীদকে সমমর্যাদা দিয়ে একেবারে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হোক ওই কষ্টক্লিষ্ট পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার জন্য।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ‘জেল জুলুম ও মিথ্যা মামলা’ মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে; তাদেরও সহায়তার আওতায় আনা উচিত।

চাঁদপুরে নদী খনন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি

চাঁদপুরের নদী, কৃষি এবং নাব্যতার প্রসঙ্গ তুলে মমিনুল হক বলেন, “আমি আজকে মহান সংসদকে অনুরোধ করব যেন চাঁদপুরে একটি ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনে।”

বক্তব্যে মাদকবিরোধী কঠোর আইনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “অবশ্যই যারা মাদক প্রস্তুতকারী এবং বিপণনকারী, তাদেরকে ননবেইলেবল সেকশন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সাজার সাজা দিয়ে আমাদের দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য আমি এই মহান সংসদে উপস্থাপন করছি।”

খুলনায় সেতু, মডেল মন্দির নির্মাণের দাবি

খুলনা ১ আসনের সদস্য আমীর এজাজ খানও রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি ধন্যবাদ জানাই মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে। যিনি ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার যে অত্যাচার নির্যাতন জুলুম খুন গুম করেছেন, অকপটে সেটা তিনি স্বীকার করেছেন এই জাতীয় সংসদে।”

তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা দাকোপ ও বটিয়াঘাটার অনগ্রসরতার কথা তুলে ধরে দুটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। একই সঙ্গে এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য দুটি ‘মডেল মন্দির’ নির্মাণের অনুরোধ করেন।

আমীর এজাজ খান বলেন, “আমার ওই অঞ্চল বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। সেইখানে দুইটা মডেল মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে, আমি আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই যে আমার দুই উপজেলায় দুইটা মডেল মন্দির যাতে নির্মাণ হয় সেই ব্যবস্থা করবেন।”

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ না থাকায় খোকনের আপত্তি

নরসিংদী ১ আসনের সদস্য খায়রুল কবির খোকন বক্তব্যের শুরুতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৬৯, ১৯৯০ এবং জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন।

তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ না আসায় তিনি অসন্তোষ জানান।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই চোখই অন্ধ।”

এর ব্যাখ্যায় খোকন বলেন, “১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ একটি নির্বাচিত সরকারের হাত থেকে স্বৈরাচার সামরিক জান্তা এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল… সেই স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনকে আমরা গতিশীল করেছিলাম।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন খোকন। তিনি বলেন, “সরকার ৪০ দিনের মাথায় যেভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা যুগান্তকারী।”

শিক্ষা প্রশাসনে আগের সরকারের লোকজন থাকার অভিযোগ

কুমিল্লা ২ আসনের সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলার বিষয়টি স্বাগত জানান।

তার অভিযোগ, বিগত সময়ে পাঠ্যপুস্তক থেকে জিয়াউর রহমানের নাম ‘মুছে ফেলা’ হয়েছিল। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো আগের সরকারের ‘দোসররা’ বহাল আছে।

এ সময় তিনি নিজের এলাকা হোমনা ও তিতাসের সড়ক, সেতু ও হাসপাতালের দুরবস্থার কথা সংসদে তুলে ধরেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ