সরকারি দলের মূলতবি প্রস্তাব গ্রহণ: সংসদে ‘বিরল নজির’, রোববার আলোচনা
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১ এপ্রিল) : জাতীয় সংসদে এক ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের আনা মূলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করেছেন স্পিকার, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে একটি মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি গ্রহণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী ৫ এপ্রিল, রোববার দিনের সর্বশেষ কার্যসূচি হিসেবে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, মূলতবি প্রস্তাব এমন একটি বিশেষ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে চলমান কার্যসূচি স্থগিত রেখে জরুরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সাধারণত বিরল পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
প্রস্তাব গ্রহণের সময় স্পিকার বলেন, দেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার সরকারি দলের কোনো সদস্যের উত্থাপিত মূলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হলো। ফলে এটি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ফল হিসেবে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ দেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশক একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা জরুরি বলেও তিনি মত দেন।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আওতায় সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ আদেশ জারি করেছিল। পরবর্তীতে এ বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়।
সেই আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় শপথ সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো সেই পরিষদ গঠিত হয়নি।
এদিকে একই বিষয়ে বিরোধী দলও মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে প্রস্তাবটি সংসদে তোলেন। যদিও এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
পরে একই ইস্যুতে নতুন প্রস্তাব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাদের প্রস্তাব উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
সব মিলিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন সংসদের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। রোববারের নির্ধারিত আলোচনা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মনোয়ারুল হক/
