যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজবাড়ী), এবিসিনিউজবিডি, (২৫ মার্চ) : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কয়েকজন সেই বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত।
ইতোমধ্যে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি ধীরে ধীরে নদী থেকে তোলা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটির সামনের অংশ আংশিক দৃশ্যমান হয়।
উদ্ধারকারীরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে বাসের ভেতরে আটকে থাকা কোনো মরদেহ পানিতে তলিয়ে না যায় বা স্রোতে ভেসে না যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যে বাসটি পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে জোরালো অভিযান শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও ডুবুরি দলের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলের সহযোগিতায় বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে। এ কাজে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় ডুবুরিরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন।
মনোয়ারুল হক/
