মিরপুর টেস্ট: মিরাজের ৫ উইকেট, এগিয়ে থেকে দিন শেষ বাংলাদেশের
ক্রীড়া প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১০ মে) : দিনের খেলা শেষের ঘোষণা আসতেই আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরোকে ঘিরে ধরলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত ছিল পর্যাপ্ত আলো থাকলে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত চালানো যাবে খেলা।
কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টায় লাইট মিটার দেখে আম্পায়াররা তুলে নিলেন বেলস। পাকিস্তানিরা তা মানতেই পারছিলেন না।
শেষ বিকেলে অন্তত একটি-দুটি উইকেট নিতে শান মাসুদ-শাহীন আফ্রিদিরা ছিলেন মরিয়া। আম্পায়ারের সঙ্গে তাদের দরবার চলতেই থাকল।
বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় ততক্ষণে হনহন করে ড্রেসিং রুমের পথে হাঁটা দিয়েছেন।
এর আগে মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে দিনটি নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ।
আগের দিনের এলোমেলো বোলিংয়ের হতাশা কাটিয়ে মিরপুর টেস্টে ঘুরে দাঁড়াল স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ধরা দিল ২৭ রানের লিড। তৃতীয় দিন শেষ করল ৩৪ রানে এগিয়ে থেকে।
১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন শুরু করে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে।
এক সময় যদিও লিড নেওয়ার পথেই এগোচ্ছিল সফরকারীরা। তবে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে ৩৭ রানের মধ্যে।
বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ করেছে বিনা উইকেটে ৭ রানে। বৃষ্টিতে এ দিন খেলা বন্ধ ছিল দুই ঘণ্টা।
আগের দিনের একমাত্র উইকেট শিকারী মিরাজ এ দিন আরো ৪ উইকেট শিকার করেন।
টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্দশবার তিনি পেলেন ইনিংসে ৫ উইকেটের স্বাদ।
আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলামের প্রাপ্তি ২ উইকেট। সকালে ২ উইকেট নিয়ে অবশ্য বাংলাদেশের ফেরার দুয়ার খুলে দেন তাসকিন আহমেদ।
দিনের শুরুটা পাকিস্তান করেছিল আগের দিনের রেশ নিয়েই। ৮৫ রানে দিন শুরু করা আজান আওয়াইস সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান দিনের পঞ্চম ওভারে। টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা ষষ্ঠ ব্যাটার তিনি; ছয়জনের তিনজনই পাকিস্তানের।
তখনো পর্যন্ত দারুণ খেলতে থাকা আজান এরপরই মনোযোগ হারান। তাসকিনের বলে আলগা শটে ক্যাচ তুলে দেন স্লিপে।
১০৪ রানের জুটি ভাঙার পর উইকেট ধরা দেয় আরো ৩টি। টানা সাত ওভারের ওই স্পেলে পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদকে ফেরান তাসকিন।
এরপর মিরাজের পালা। সুইপের চেষ্টায় শূন্য রানেই বিদায় নেন সৌদ শাকিল। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মিড অনে ধরা পড়েন আবদুল্লাহ ফজল। অভিষিক্ত বাঁহাতি করেন ৬০ রান।
২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন টালমাটাল পাকিস্তান। এর মধ্যেই সালমান আলী আগাকে শূন্য রানে আউট করে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাসকিন। কিন্তু তাকে ও তার সতীর্থদের থামিয়ে দেয় আম্পায়ার উদ্যত এক হাত। নো বল!
সালমান বেঁচে গিয়ে শতরানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে। শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকলেও পরে সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়ান দুজন।
দ্বিতীয় নতুন বলেও পেসাররা পারেনি জুটিতে ফাটল ধরাতে। শেষ পর্যন্ত সফল হন তাইজুল ইসলাম। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা রিজওয়ানকে (৭৯ বলে ৫৯ রান) ফেরান তিনি বুদ্ধিদীপ্ত ডেলিভারিতে।
এরপরই বৃষ্টিতে বন্ধ থাকে খেলা। দুই ঘণ্টার বিরতিতে যেন ধার বেড়ে যায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের। বিরতির পরপরই নাহিদ রানা থামান ৫৮ রান করা সালমানকে।
নোমান আলী ও শাহীন আফ্রিদিকে ফিরিয়ে মিরাজ পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। শেষ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাইজুল।
শেষ বিকেলে বাংলাদেশের দুই ওপেনারের সামনে ছিল চ্যালেঞ্জ। তবে সেই পরীক্ষায় বেশি পড়তে হয়নি তাদের। ১.৫ ওভার পরই খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা।
আজ বৃষ্টিতে অনেক ওভার নষ্ট হওয়ায় আগামীকাল খেলা শুরু হবে ১৫ মিনিট আগে।
মনোয়ারুল হক/
