ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব: আইইএ প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৩ মার্চ) : চলমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে বিশ্ব এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল।

সোমবার (২৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফাতিহ বিরোল জানান, বর্তমান সংকটের গভীরতা ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক দুটি তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭০-এর দশকের সেই দুটি সংকটে বিশ্ব প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল হারিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাল (১১ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল উৎপাদন ও সরবরাহ হারাচ্ছি। অর্থাৎ, আগের দুটি বড় সংকটের মিলিত ক্ষতির চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি বেশি ভয়াবহ।’

আইইএ প্রধানের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই ধস নেমেছে।

এ সময় তিনি কিছু উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। এগুলো হলো- প্রতিদিন ১১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজার থেকে গায়েব হয়ে গেছে। প্রায় ১৪০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কার সংকটের প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এটি এখন এক নম্বর ‘মেজর থ্রেট’ বা বড় হুমকি।

ফাতিহ বিরোল জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইইএ সদস্য দেশগুলো তাদের জরুরি রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।’

তিনি বিশ্বনেতাদের অবিলম্বে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার এবং সংঘাত থামানোর আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থানের কারণে গত কয়েক দিনে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এশিয়ার বাজারগুলোতে ইতোমধ্যে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। – এনডিটিভি

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ