হরমুজে ইরানের ছোট নৌযানে দিশেহারা মার্কিন বাহিনী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৮ মার্চ) : মধ্যপ্রাচ্যে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের নৌবাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি সহজ হয়নি। ছোট নৌযান ও দ্রুতগামী বোট ব্যবহার করে ইরান মার্কিন বাহিনীকে চাপে রাখছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
এদিকে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। দেশটির আইআরজিসি জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক জলপথে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশ এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র নয়, তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি।
স্যাটেলাইট তথ্য ও বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের দুটি নৌঘাঁটিতে নোঙর করা সাতটি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এলাকায় মাটির নিচে থাকা একটি নৌঘাঁটির প্রবেশপথও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নৌবাহিনী মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি হলো ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান নৌবাহিনী, যারা প্রচলিত যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের কয়েকটি জাহাজ ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় নৌবাহিনী পরিচালনা করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই বাহিনী অসম যুদ্ধ কৌশলে দক্ষ। তাদের কাছে রয়েছে বিপুল সংখ্যক স্পিড বোট এবং স্বয়ংক্রিয় নৌযান। এসব ছোট নৌযানকে লক্ষ্য করে আঘাত করা বেশ কঠিন বলে মনে করা হয়।
এই আইআরজিসি বাহিনীই মূলত হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা তদারকি করে। তাদের দ্রুতগামী ছোট নৌযান ও বিভিন্ন কৌশলের কারণে মার্কিন বাহিনী এখনো সেখানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
ওয়াশিংটনের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিকোলাস কার্ল নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনীর বেশ কিছু জাহাজ ধ্বংস করায় যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরে এখনো ইরানের অনেক ছোট জাহাজ সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী জাহাজ ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যা আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণারি, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। আক্রান্ত জাহাজগুলোর ক্রুদের তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত কোনো প্রজেক্টাইল থেকে এসব হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন অথবা ছোট কোনো নৌযান থেকে এসব হামলা চালানো হতে পারে। হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের মোট তেল ও এলপিজিবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে। এই কারণে হরমুজ প্রণালিকে অনেক সময় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো মূলত এই পথ ব্যবহার করেই বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ক্রুদের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি।
ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, তাসনিম নিউজ
মনোয়ারুল হক/
