তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসন ঘিরে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক (বগুড়া), এবিসিনিউজবিডি, (২৪ ফেব্রুয়ারি) : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিজয়ী হন। আসন দুটি হচ্ছে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭। সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক আসনে নির্বাচিত হলেও কেবল একটিতে সংসদ সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন। সে অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন তারেক রহমান। ইতিমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে উপনির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
শহরের অনেকের মতে, তারেক রহমান যেহেতু নিজে এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই উপনির্বাচনেও তাঁর পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দিলে এলাকাবাসী খুশি হবে। আবার তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকে বলছেন, তাঁরা চান এমন একজনকে প্রার্থী করা হোক, যিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন।
কেউ কেউ বলছেন পরিবার থেকে মনোনয়ন দিলে সহানুভূতির ভোট পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়, মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত কাউকে দিলে দল আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। তাদের দরকার এমন এমপি যিনি রাস্তাঘাট, কৃষি আর বাজারের সমস্যাগুলো বুঝবেন।’
আবার কেউ বলছেন, দলের দুঃসময়ে যাঁরা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা মোকাবিলা করেছেন, কর্মীদের আগলে রেখেছেন। বিপদে-আপদে নিজের টাকা খরচ করে কর্মীদের দেখভাল করেছেন তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের কর্মীরা বেশি উৎসাহ পাবে।
জেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, তারেক রহমানের পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে কেন্দ্রের বার্তা শক্ত হবে। তবে স্থানীয় নেতাদের মধ্যেও কয়েকজন যোগ্যতাসম্পন্ন, তাঁদের গ্রহণযোগ্যতাও ভালো।
বগুড়া-৬ আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে যে কেউ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে থাকেন। তবে জিয়া পরিবার থেকে প্রার্থী দিলে আবেগের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে, আর জেলার নেতাদের মধ্য থেকে দিলে সংগঠন শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। ফেসবুকে পছন্দের নেতার প্রার্থিতা চেয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, জিয়া পরিবার থেকে প্রার্থী দেওয়া হলে বগুড়ার মানুষ সবচেয়ে বেশি খুশি হবে। আর অন্য প্রার্থী দেওয়া হলেও তিনি যেন এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের পাশে থাকেন, এটাই বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা।
মনোয়ারুল হক/
