দেড় বছর পর দেশ নির্বাচিত সরকার পেল
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৭ ফেব্রুয়ারি) : ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। বিশেষ এই প্রেক্ষাপটে ওই বছরের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। তারপর অতিবাহিত হয়েছে দেড় বছর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর আজ মঙ্গলবার প্রথমে শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা, পরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এর মাধ্যমে দেড় বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার পেল বাংলাদেশ।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে থাকতে বাধ্য হন তিনি। তারেক রহমান দেশে ফিরতে না-ফিরতেই ৩০ ডিসেম্বর মারা যান তাঁর মা বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
তবে মাতৃশোক কাটিয়ে ওঠার আগেই রাজনীতির মাঠে নেমে পড়তে হয় তারেক রহমানকে। অবশেষে আসে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন হয়নি।
একই দিন জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গণভোটে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
তবে আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুসারে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন। তবে বিএনপি বলেছে, বিষয়টি সংবিধানে নেই। তাঁরা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। এ কারণে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি থাকার পরেও বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় কিছু সময়ের জন্য একধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা।
এরপর বিকেলে শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দেড় বছর পর আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পেল।
মনোয়ারুল হক/
