ট্রাম্পের হুমকির মাঝেই কলম্বিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৯ জানুয়ারি) : সম্প্রতি কলম্বিয়ায় হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে তার লড়াই এখন প্রকাশ্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই টানাপড়েনের মধ্যেই দেশটিতে এবার বামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে।
রবিবার অ্যামাজন অঞ্চলের গুয়াভিয়ারে বিভাগের এল রেতোরনো পৌরসভার একটি গ্রামীণ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, কোকেন উৎপাদন ও পাচারের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মূলত এলাকার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই লড়াইয়ের সূত্রপাত।
সামরিক সূত্র জানায়, কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর (ফার্ক) মধ্যে অন্তর্কোন্দলের ফল এই সংঘর্ষ হয়। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন দেশের সবচেয়ে ‘কুখ্যাত’ পলাতক নেতা নেস্তর গ্রেগোরিও ভেরা, যিনি তার যুদ্ধনামে ‘ইভান মোরদিস্কো’ নামে পরিচিত। অপর গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন আলেকজান্ডার দিয়াস মেন্ডোজা, যিনি ‘কালার্কা কর্দোবা’ ছদ্মনামে পরিচিত।
দুটি গোষ্ঠীই আগে তথাকথিত ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’-এর অংশ ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তারা আলাদা হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই সামরিক সূত্র জানায়, নিহত সবাই ভেরার গোষ্ঠীর সদস্য। দিয়াসের গোষ্ঠীর একজন নেতা সংবাদমাধ্যমকে সংঘর্ষ ও ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিয়াসের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বর্তমানে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে সরকার দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি স্থগিত করার পর ভেরার গোষ্ঠী বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এই দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীই ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। সে চুক্তিতে প্রায় ১৩ হাজার ফার্ক সদস্যকে অস্ত্র ত্যাগ করে সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাতের ফলে অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মূলত মাদক পাচার ও অবৈধ খনির অর্থেই এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
মনোয়ারুল হক/
