সাপ্লিমেন্ট নয়, পটাশিয়ামের ভাণ্ডার যেসব খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৯ নভেম্বর) : আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মিনারেল ও ইলেকট্রোলাইট হচ্ছে পটাশিয়াম। এটি ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে, কোষে-কোষে পুষ্টির জোগান দেয়, পেশি ও স্নায়ুর স্বাস্থ্য বজায় রাখে। পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে মারাত্মক বিপদ, তথা প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে।

পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

এটি সরাসরি কোলেস্টেরল না কমালেও যেসব খাবার খেলে কোলেস্টেরল কমে তাতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। ফলে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে হার্ট ভালো থাকে। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা বা অ্যারিদমিয়া রোগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসার পাশাপাশি পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। হাড় ও পেশির স্বাস্থের জন্যও পর্যাপ্ত পটাশিয়াম খাওয়া দরকার।

রক্তে যখন পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৫ মিলিমোল এর থেকে কমে যায়, তখন-ই বুঝতে হবে শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হয়েছে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে হাইপোক্যালেমিয়া। পটাশিয়াম কম মানেই বেড়ে যায় উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখ, স্ট্রোকের ঝুঁকি।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মতে, ডায়েটেশিয়ান আনা টেলর বলেছেন, পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ও কম সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের জন্য দিনে অন্তত ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম খাওয়া দরকার। সাপ্লিমেন্ট নয়, আপনার ভীষণ চেনা সাধারণ ৯ খাবারেই রয়েছে গাদাগাদা পটাশিয়াম। দেখে নিন তালিকা—

বিনস : বিনস-এ কলার থেকেও বেশি পটাশিয়াম থাকে। ১ কাপ বা ১৭৯ গ্রাম বিনস-এ শরীরে আপনার দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার ২১ শতাংশ থাকে। কালো বিনস-এ থাকে শরীরে আপনার দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার ১৩ শতাংশ।

কলা : রোজ একটা কলা খেলেই শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। মাঝারি মাপের একটি কলায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে।

ডাবের পানি : ডাবের পানি ডিহাইড্রেশন রোধ করে। এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট কোষে-কোষে পানি পৌঁছায়। ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এক্সারসাইজের সময় শক্তি যোগায়। ১ কাপ বা ২৪০ মিলি ডাবের পানিতে শরীরে আপনার দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার ১৩ শতাংশ থাকে।

কমলালেবু : পটাশিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কমলালেবু। একটি কমলালেবুতে প্রায় ২৩০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।

তরমুজ : ২ টুকরা বা ৫৭২ গ্রাম তরমুজে থাকে শরীরে আপনার দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার ১৪ শতাংশ।

পালং শাক : ৩ কাপ বা ৯০ গ্রাম পালং শাকে রয়েছে শরীরে আপনার দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার ১১ শতাংশ। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ফোলেট ও ম্যাগনেসিয়াম।

অ্যাভোকাডো : একটি মাঝারি মাপের অ্যাভোকাডোতে প্রায় ৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।

মিষ্টি আলু : ১ কাপ বা ৩২৮ গ্রাম মিষ্টি আলুতে রয়েছে শরীরে আপনার দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার ১৬ শতাংশ।

আলু : একটি মাঝারি মাপের সিদ্ধ আলুতে থাকে শরীরে আপনার দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার ১২ শতাংশ।

পটাশিয়াম কমার লক্ষণ কী কী

শরীরে পটাশিয়াম কমে গেলে সর্বক্ষণ ক্লান্ত লাগে। পটাশিয়াম পেশি সঙ্কুচনে সাহায্য করে। তাই পটাশিয়াম কমে গেলে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, পেশিতে ক্র্যাম্প ধরে। পাশাপাশি হজমের সমস্যাও দেখা দেয়। হার্টবিট কখনো বেড়ে যায় কখনো কমে যায়। নিশ্বাসে কষ্ট হয়।

আবার হাতে-পায়ে ঝিঁঝি ধরতে থাকে ঘনঘন। কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। বেশি মাত্রায় পটাশিয়াম কমে গেলে ডাইলিউটেড ইউরিন, পেশিতে প্যারালাইসিস, হৃৎস্পন্দন হার বদলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

সূত্র : নিউজ ১৮

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Facebook
ব্রেকিং নিউজ