চুয়েটে সংকট নিরসনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (১৯ অক্টোবর): দীর্ঘ ২৮ দিন ধরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলা অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত সচল করা এবং বর্তমান সংকটের একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সদস্যপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের জরুরি সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে।
গতকাল (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অচলাবস্থা দূর করে পঠনপাঠন স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে ইউজিসির সদস্যপর্যায়ে একটি তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কিংবা পরামর্শক দল গঠনের সুপারিশ প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ মোট ছয়জন সিন্ডিকেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন (যাঁদের সংখ্যা সবমিলিয়ে ১৫ জন)। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সভায় চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি অংশ নেননি, এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি যোগ দেননি।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিন পর তিনি এই পদ হারান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
সাবেক উপাচার্যকে পুনরায় তাঁর পদে বহাল করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলন শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সর্বাত্মক শাটডাউন ঘোষণা করা হয় এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও এই কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ পুরোপুরি থমকে যায়।
চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ ও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে ছয়টি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন রুটিন তৈরি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাস আরও বেশি জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
গত ১২ অক্টোবর নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে প্রশাসনিক ভবনে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিশেষে ১৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তিনি প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
মনোয়ারুল হক/
