উৎসব সব বিভাজন মিলিয়ে দেয়
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ অক্টোবর): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, উৎসব মানুষের মধ্যকার সব ধরনের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয় এবং অভিন্ন ভিত্তির ওপর দাঁড়ানোর সাহস ও শক্তি জুগিয়ে থাকে। মূলত এই কারণেই আবহমানকাল ধরে একই ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসকারী ভিন্ন ভিন্ন মত ও ধর্মের মানুষ দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে বিভিন্ন উৎসব উদ্যাপন করে আসছেন।
শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত রমনা কালীমন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আজ এই সুপরিচিত রমনা কালীমন্দিরে দুর্গাপূজার সার্বিক আয়োজন চলছে। ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা আমাদের সঙ্গে এই আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দীর্ঘ হাজার বছর ধরে আমরা একে অপরের আনন্দের উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে আসছি। যদিও অনেকেই আমাদের এই মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে নারাজ। বিশেষ করে আসন্ন পূজাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হয়েছে। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যাতে অত্যন্ত নিরাপদে ও কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়াই তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি মন্দিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে। দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে দলীয় কর্মীরা এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, ইতিপূর্বে প্রতিটি মন্দিরের অনুকূলে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি এখন থেকে দেশের প্রতিটি মন্দির সরকারের পক্ষ থেকে ৮ হাজার টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ পাবে। এছাড়া সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের জন্য বিশেষ উৎসব ভাতা হিসেবে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলার এই উদার মানসিকতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবং এটিই বিএনপির মূল রাজনৈতিক দর্শন। সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই সোনার বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ সব প্রান্তের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন এবং প্রত্যেকেই এ দেশে সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন।
উক্ত পরিদর্শণ অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী আনন্দময়ী আশ্রমের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ সনাতন ধর্মের অগণিত ভক্ত ও অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
