সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ অক্টোবর): সব ধর্মেরই অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার; আর মানবকল্যাণ হলো সব ধর্মেরই মূল শিক্ষা। নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা সবার জন্যই অত্যন্ত জরুরি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বাণীতে উল্লেখ করা হয়, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জগতের কল্যাণ সাধনের জন্য দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে মর্তে আগমন করেন এবং ভক্তদের কল্যাণ নিশ্চিত করে অশুভ শক্তির বিনাশ ও সৃষ্টিকে রক্ষা করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই সাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে এক অনন্য উচ্চতা প্রদান করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে যার যার ধর্ম পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। এটিই মূলত বাংলাদেশের আবহমানকালের সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির মূল সৌন্দর্য। এভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের নানা সম্প্রদায় ও গোত্রের মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
সরকারপ্রধান বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর বাংলাদেশ আবারও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং শুরু হয়েছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাণীতে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বৈচিত্র্যময় সমাজ ও জীবনধারা।
বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা লাভের অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসবের আমেজে, নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ পরিবেশে সারা দেশে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উৎসব উদ্যাপন করুন। আপনাদের জানাই আবারও শুভেচ্ছা।”
মনোয়ারুল হক/
