বন্যার শঙ্কায় দিশেহারা হাওরের কৃষকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক (সুনামগঞ্জ), এবিসিনিউজবিডি, (২৮ এপ্রিল) : হাওর থেকে ধান সংগ্রহ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জ এলাকার কৃষকরা। একদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় হাওরের অনেক ধানখেত পানিতে তলিয়ে আছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জারি করা আকস্মিক বন্যার সতর্কতা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবের মধ্যে আবার শ্রমিকসংকট এবং বৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে সমস্যা হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে হাওর এলাকায় এক অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত হাওরের ৭৮ হাজার ২২৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এখনো ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৮২ হেক্টর জমিতে ধান রয়ে গেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ভারী বৃষ্টি। সুনামগঞ্জ এবং জেলার উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে একইভাবে ব্যাপক বৃষ্টি হবে। এতে করে পাহাড়ি ঢল নেমে জেলার হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। গত কয়েক দিন ঢলের পানি নামায় সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে পানি বেড়েছে।
সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া (৪০) জানান, বন্যার আশঙ্কার কথা শুনে তিনি আতঙ্কে আছেন। এক সপ্তাহ ধরে হাওরে জলাবদ্ধতা, অর্ধেক ধান তলিয়ে আছে। বাকি অর্ধেক ধানও পানিতে তালিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। আল্লাহই জানেন কী হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, পাউবো এবার সুনামগঞ্জ হাওরের ফসল রক্ষায় ১৪৫ কোটি টাকা প্রাক্কলন ধরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করেছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে সোমবার সকালে নদীর পানি কিছুটা কমেছে। বৃষ্টি হলে তা আবার বাড়বে, আরও বাড়বে। এমনিতেই বৃষ্টির কারণে ফসলরক্ষা বাঁধের মাটি নরম হয়ে আছে। এর মধ্যে উজানের ঢল নামলে অনেক ফসলরক্ষা বাঁধ তা আর সামলাতে পারবে না।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, জেলার ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ টন। এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২২৮ হেক্টরের ধান কাটা হয়েছে। গত রবিবার পর্যন্ত অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমির ধান। এখনো ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৮২ হেক্টর জমিতে ধান রয়ে গেছে। জমিতে থাকা ধানের মধ্যে আবার অর্ধেক এখনো পাকেনি। এবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়াতে ধান পাকতে সময় নিচ্ছে বেশি। জেলায় ৬০২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর রয়েছে। অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে কম্বাইন্ড হারভেস্টরে ধান কাটাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আমরা দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টা করছি কৃষকদের।
সৌজন্যে: খবরের কাগজ
মনোয়ারুল হক/
