হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, মার্চ মাসেই ২১ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩০ মার্চ) : দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। হঠাৎ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, আর চলতি মার্চ মাসেই কমপক্ষে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া, কৃমিনাশক সেবনে অনীহা এবং অপুষ্টিই এই সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও গলার মিউকাসে থাকা ভাইরাস কাশি, হাঁচি বা কাছাকাছি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে দূষিত বস্তু স্পর্শ করে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলেও সংক্রমণ হতে পারে।

হাম ছড়ানোর সাধারণ উপায়গুলো হলো-

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসা
  • কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বায়ুবাহিত সংক্রমণ
  • দূষিত বস্তু স্পর্শ করে মুখে হাত দেওয়া

বিশেষজ্ঞরা জানান, লক্ষণ প্রকাশের আগেই একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত রোগটি সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে থাকে।

হাম ছড়ানোর সাধারণ উপায়

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর দ্রুত গলা, ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এটি চোখ, রক্তনালী এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংক্রমণের ৯ থেকে ১১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি- একই ঘরে বসবাসকারী প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।

হামের লক্ষণ

হামের প্রধান লক্ষণগুলো হলো-

  • উচ্চ জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত)
  • সর্দি, কাশি
  • চোখ লাল ও পানি পড়া
  • শরীরে লালচে ফুসকুড়ি

সাধারণত সংক্রমণের ১০-১৪ দিনের মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা দেয়।

প্রাথমিক লক্ষণ (প্রথম ৩-৪ দিন)

শুষ্ক কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, চোখ লাল হওয়া, আলোতে অস্বস্তি, শরীরে ব্যথা ও ক্লান্তি।

এ সময় মুখের ভেতরে বিশেষ করে গালে ছোট সাদা দাগ দেখা যেতে পারে, যাকে কোপলিক স্পট বলা হয়— এটি হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ।

ফুসকুড়ির ধাপ

৩-৪ দিনের মধ্যে কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে মুখ, ঘাড় হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে লালচে-বাদামি ফুসকুড়ি। এটি ৫-৭ দিন স্থায়ী হতে পারে এবং এ সময় জ্বর ওঠানামা করতে পারে।

সতর্কতা ও করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে যেখানে টিকাদানের হার কম। এই রোগ থেকে নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ